সেল ও ব্যাটারির পরিচিতি - ব্যাটারি - সেল কাকে বলে - ড্রাই সেল কাকে বলে
সেল ও ব্যাটারির পরিচিতি - ব্যাটারি - সেল কাকে বলে - ড্রাই সেল কাকে বলে
সেল ও ব্যাটারি
সেল যে যন্ত্রের সাহায্যে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তাকে সেল বলে। একেতড়িৎ কোষও বলা হয়। সেলের ভেতর স্থির মানের ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়, যার ফলে বন্ধ সার্কিটে ডাইরেক্ট কারেন্ট প্রবাহের (ডিসি) সৃষ্টি হয়। এ কাজের জন্য অপরিবাহী পাত্রের মধ্যে ভিন্নধর্মী দুইটি ধাতব পাত ও রাসায়নিক পদার্থ রাখলে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়। লোড সংযুক্ত করে সার্কিটের আবদ্ধ অবস্থায় বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। সেলে উৎপন্ন ভোল্টেজ সেলের ইলেকট্রোডের আয়তনের উপর নির্ভর করে না, এটির উপাদান বা অ্যাকটিভ পদার্থের
পরিমাণ ও গুণাগুণের উপর নির্ভর করে। ব্যাটারি কতকগুলো তড়িৎ কোষ বা সেল এর সংযোগকে ব্যাটারি বলে। ব্যাটারিতে একাধিক সেলযুক্ত থাকে। সাধারণভাবে প্রতিটি ড্রাই সেলে ১.৫ ভোল্ট, লিড অ্যাসিড সেলে ২.২ ভোল্ট উৎপন্ন হয় এবং উৎপাদিত শক্তির পরিমাণ সীমিত। নিচে ব্যাটারির প্রতীক ও গঠন দেখানো হলো। ভোল্টেজ বা কারেন্টের পরিমাণ বা উত্তরই বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেলের সংযোগ করে ব্যাটারি তৈরি করা হয়। ভোল্টেজ বা কারেন্টের পরিমাণ বা উভয়ই বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেলের সংযোগ করে ব্যাটারি তৈরি করা হয়। ভোল্টেজ বৃদ্ধি করতে সেলে সিরিজ সংযোগ, কারেন্ট বৃদ্ধিতে প্যারালাল সংযোগ এবং ভোল্টেজ ও কারেন্টের বৃদ্ধিতে মিত্র সংযোগ করা হয়। সংযুক্ত সেলের পরিমাণ লোডের চাহিদার উপর নির্ভর করে।
সেলের শ্রেণিবিভাগ সেল দুই ধরনের।
(ক) প্রাইমারি সেল বা মুখ্য সেল ও
(খ) সেকেন্ডারি সেল বা গৌণ সেল।
সেল ও ব্যাটারির পরিচিতি - ব্যাটারি - সেল কাকে বলে - ড্রাই সেল কাকে বলে
(ক) প্রাইমারি সেল যে সেল বা বিদ্যুৎ কোষের শক্তি একবার শেষ হলে চার্জ করে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না, তাকে প্রাইমারি সেন্স বা মুখ্য কোষ বলে। লেকল্যান্স বলে, ড্যানিয়েল সেল এবং ড্রাই সেল ইত্যাদি প্রাইমারি সেলের শ্রেণিভুক্ত। বর্তমানে এ ধরনের সেলের ব্যবহার সীমিত। প্রাইমারি সেলে রাসায়নিক পদার্থগুলোর ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বদ্ধ হয়। তখন সে সেল আর ব্যবহার করা যায় না। এ ধরনের সেল ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, টর্চলাইট ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের সেল হতে একই রকম ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়। না। ব্যবহারের ফলে ক্ষমতা শেষ হওয়ার আগেই ভোল্টেজ কিছুটা কমে যায়।
(খ) সেকেন্ডারি সেল : যে সেল বা বিদ্যুৎ কোষের শক্তি একবার শেষ হলে তা পুনরায় চার্জ করে ব্যবহার করা যায়, তাকে সেকেন্ডারি সেল বলে। একে সঞ্চয়ী বিদ্যুৎ কোষও বলা হয়। চার্জের যারা বিদ্যুৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে এবং ব্যবহারের সময় রাসায়নিক শক্তি, বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ব্যবহারের ফলে চার্জ শেষ হলে আবার চার্জ করে উক্ত সেল আবার ব্যবহার করা যায়।
যে রাসায়নিক শক্তির বিক্রিয়ার ফলে তড়িৎ শক্তির উদ্ভব হয় সেই রাসায়িক শক্তি সেলের মধ্যে সঞ্চিত থাকে বলে এর নামকরণ হয়েছে সঞ্চয়ী সেল। লিড অ্যাসিড সেল, অ্যালকালি সেল ইত্যাদি সেকেন্ডারি সেলের অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে সেকেন্ডারি সেল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মোটরগাড়ি চালু করতে, সাবস্টেশনের নিয়ন্ত্রণ কাজে, রেলের সিগন্যালে, টেলিফোন এক্সচেঞ্জে, যানবাহন চালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের সেকেন্ডারি দেশ হতে প্রায় একই রকম ভোল্টেজ-এ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়।
অন্য পোষ্ট : নাইফ সুইচ - তারের জয়েন্ট কত প্রকার - টিউব লাইট - টিউব লাইট মানে কি
সাধারণ সেল
সাধারণ সেলের গঠন বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলেকসান্দ্রো ভোল্টা ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এ সেল সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে দুটি ভিন্ন ধর্মের ধাতব পদার্থ (দত্তা ও কর্বন বা তামা)} আলাদা রেখে লঘু বা পাতলা অ্যাসিড দ্রবণের মধ্যে ডুবালে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স বা ইএম এফ উৎপন্ন হয়। অ্যাসিডের মধ্যে ডুবানো ধাতব পদার্থকে ইলেকট্রোড বলে। এক্ষেত্রে দত্তার দত্ত নেগেটিভ ইলেকট্রোড ও ভামা বা কার্বন দণ্ড পঞ্জিটিভ ইলেকট্রোড হিসেবে কাজ করে। আর আসিড দ্রবণেকে বলা হয় ইলেকট্রোলাইট। আবিষ্কারকের নাম অনুসারে এই সেলকে ভোল্টাইক সেলও বলা। সাধারণ সেল বা ভোল্টার সেলে ইলেকট্রোড হিসেবে দত্তা ও তামা এবং ইলেকট্রোলাইট হিসেবে পাতলা সালফিউরিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়। নিচে সাধারণ সেলের গঠন বর্ণনা করা হয়েছে।পঠনপ্রণালি :
সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ বা সেল নিম্নলিখিত উপাদানগুলো নিয়ে গঠিতক) পজিটিভ ইলেকট্রোড হিসেবে তামা বা কপার,
খ) নেগেটিভ ইলেকট্রোড হিসেবে সত্তা বা জিকে
গ) ইলেকট্রোলাইট হিসেবে পাতলা সালফিউরিক অ্যাসিড।
সাধারণ সেলের ত্রুটি: সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ বা সেলে তিনটি ত্রুটি দেখা যায়। যথা
১. স্থানীয় ক্রিয়া
২. পোলারন বা জেনন এবং
৩. রাসায়নিক ক্রিয়ার হ্রাস।
১. স্থানীয় ক্রিয়া বাজারে সাধারণত যে দপ্তা পাওয়া যায় তা বিশুদ্ধ নয়। এতে অন্যান্য ধাতুর মিশ্রণ থাকে। অর্থাৎ দন্ডায় ভেজাল থাকে। ভেজাল মিশ্রিত দত্তা অ্যাসিডে ডুৰালে দস্তা, অ্যাসিড ও ভেজাল মিলে ছোট ছোট স্থানীয় কোষ তৈরি করে। দুটি ভিন্ন ধাতু অ্যাসিডের সংস্পর্শে এসে কোষ গঠন করে। এ স্থানীয় কোষগুলোতে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তা মূল বিদ্যুৎ প্রবাহের সাথে যুক্ত হয় না। পাত দুটি বাইরে থেকে সংযুক্ত না থাকলে এসব স্থানীয় কোষে কারেন্ট চলতে থাকে ফলে অকারণে দত্তার পাত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং সেলে অ্যাসিডের শক্তি কমে যায়। এতে কোষের কার্যকারিতা ক্রমশ হ্রাস পায়। কোষের এ ত্রুটিকে স্থানীয় ক্রিয়া বলে।
২। পোলায়ন বা ছেদন যখন পরিবাহী তার দ্বারা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত তামা ও দস্তার পাত যুক্ত করা হয়। তখন সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার উৎপন্ন ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তামার পাড়ের দিকে যায় এবং ভাষার পাতে চার্জ দিয়ে ডিসচার্জ হয়। প্রত্যেক হাইড্রোজেন আয়ন তামার পাত হতে একটি করে ইলেকট্রন নিয়ে হাইড্রোজেন পরমাণু (H)- তে পরিণত হয়। হাইড্রোজেন আয়ন যে হারে তামার পাড়ে যায় হাইড্রোজেন গ্যাস সে হারে তামার পাতের সাহায্যে বের হয়ে আসতে পারে না। ফলে তামার পাতের উপর একটি চালহীন হাইড্রোজেন গ্যাসের স্তর সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নবাগত হাইড্রোজেন আয়ন আর তামার পাতে পৌঁছাতে পারে না বরং চাষাহীন হাইড্রোজেন গ্যাসের উপর জমা হয়। এক সময় একই জাতীয় হাইড্রোজেন দ্বারা বিকর্ষিত হয়ে দত্তার পাতের দিকে ফিরে যায়। এতে সেলে রাসায়নিক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং ইএমএফ হ্রাস পায়। সেলের এ ধরনের ত্রুটিকে পোলারন বা ছেদন ত্রুটি বলে।
৩. রাসায়নিক ক্রিয় হ্রাস: বেশি সময় ধরে ব্যবহারের ফলে সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি কমে যায় এবং কারেন্ট প্রবাহ হ্রাস পায়।
সেল ও ব্যাটারির পরিচিতি - ব্যাটারি - সেল কাকে বলে - ড্রাই সেল কাকে বলে
অন্য পোষ্ট : বৈদ্যুতিক তার - ফ্লেক্সিবল তার - তারের কারেন্ট বহন ক্ষমতা
সাধারণ সেলের ত্রুটি দূর করার পদ্ধতি :
সাধারণ সেলের ত্রুটিসমূহ নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বনে দূর করা যায় ।(১) স্থানীয় ক্রিয়া : বিশুদ্ধ দপ্তার দত্ত বা পাত ব্যবহার করে এ ত্রুটি এড়ানো যায়। সাধারণ দস্তার পাতে পারদের প্রলেপ লাগালে স্থানীয় ক্রিয় বন্ধ হয়ে যায়। এ পদ্ধতিকে অ্যামালপ্যামেটিং অব জিকে বলে।
(২) পোরারন বা ছেদন কিছু সময় পরপর তামার পাতকে ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করলে এ ত্রুটি দূর হয়। এ পদ্ধতি মোটেও ভালো নয়। সেলে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে পোলারন ত্রুটি দূর করা যায়। যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে সেলের পোলারন ত্রুটি দূর করা যায় সে রাসায়নিক পদার্থকে ডিপোলারাইজার বলে। ড্রাইসেলে ডিপোলাইজার হিসেবে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করা হয়। এটি তামার পাতের চালহীন হাইড্রোজেনকে শোষণ করে।
(৩) রাসায়নিক ক্রিয়া হ্রাস সেলে বেশি পরিমাণে কার্যকরী পদার্থ ব্যবহার করে এবং প্রয়োজনে অ্যাসিড যুক্ত করে রাসায়নিক ক্রিয়ার গতি বাড়ানো যায় অর্থাৎ এই ত্রুটি দূর করা যায়।
ড্রাই সেল
ড্রাই সেলের গঠন: যে সেলে ইলেকট্রোলাইট হিসেবে ড্রাই বা পেস্ট বা জেলির ন্যায় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় তাকে ড্রাই সেল বলে। ড্রাই সেল বাস্তবে ড্রাই নয়, কারণ এর ইলেকট্রোলাইট ড্রাই হলে ড্রাই সেল ব্যবহার অনোপযোগী হয়। বাহ্যিক সাইজ অনুসারে ড্রাই সেল তিন ধরনের হয়।(ক) ডি-টাইপ,
(খ) মিডিয়াম টাইপ এবং
(গ) পেন্সিল সও,
(ঘ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড,
(ঙ) দস্তার পাত্র,
(চ) তামার ক্যাপ,
(ছ) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড,
(জ) চোষক কাগজ,
(ঝ) শক্ত কাগজ,
(ঞ) গালা বা পিচ, বালি ইত্যাদি ।
ড্রাই সেলের বাহ্যিক গঠন দেখানো হয়েছে। ড্রাহ সেলে নেপোঢল্ড ইলেকট্রোড হিসেবে দত্তার পাত্র ব্যবহার করা হয়। এ পারের মাঝখানে পজিটিভ ইলেকট্রোড হিসেবে সঠিক মাপের কার্বন দণ্ড বসানো থাকে। এ দণ্ডের উপরে পিতল বা তামার ক্যাপ লাগানো থাকে। দস্তার পাত্রে ইলেকট্রোলাইট হিসেবে পেস্ট বা জেলির ন্যায় অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। কার্বন দণ্ডের চারপাশে ডিপোলারাইজার হিসেবে ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ব্যবহার করা হয়, যা সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপাদিত পানিকে চুষে নেয়। তা না হলে দস্তার পাত্র যেন জিকে ক্লোরাইডে পরিণত হয়ে ইলেকট্রোলাইট লিক করতে পারে। কখনও কখনও ড্রাই সেল লিক গ্রুপ করার জন্য দস্তার পাত্রের চারদিকে ইস্পাতের পাতলা পাত দিয়ে মোড়ানো থাকে। ইলেকট্রোলাইট যেন না শুকিয়ে যায় তার জন্য সেলের উপরিভাগ গালা দিয়ে বন্ধ করা হয়। পিতলের বা তামার ক্যাপ ও গাশার মাঝে খুব সামান্য ফাঁক থাকে যাতে গ্যাস সৃষ্টি হলে বের হতে পারে। এ স্থানে অনেক সময় বালিও দেয়া হয়। এর উপর মোটা চোষক কাগজ দিয়ে মোড়ানো হয় এবং তার উপর প্রতিষ্ঠানের লেবেল লাগানো থাকে। প্রতিটি ড্রাইসেলের ইএমএফ ১.৫ ভোল্ট হয়। এ ধরনের সেলের অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতা খুব কম হয়ে থাকে।
সেল ও ব্যাটারির পরিচিতি - ব্যাটারি - সেল কাকে বলে - ড্রাই সেল কাকে বলে
ছাই সেলের ব্যবহার :
নিম্নবর্ণিত কাজে ড্রাইসেল ব্যবহার করা হয়।১. ইলেকট্রনিক্স ঘড়িতে।
২. ক্যালকুলেটরে।
৩. বিভিন্ন খেলনায়।
৪. টর্চ লাইটে।
৫. রেডিও এবং টেপ রেকর্ডারে।
৬. ক্যামেরায়।
৭. রিমোটে।
৮. বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্রে।
লিড লিড অ্যাসিড সেল
সঞ্চরী বা সেকেন্ডারি সেলের সংজ্ঞা সেলের মধ্যে রাসায়িক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হয়। যে সকল সেল একবার কাজে ব্যবহার করার পর এর সঞ্চিত শক্তি শেষ হয়ে গেলে আবার চার্জ দ্বারা কাজের উপযোগী করা যায়, সেই সকল সেলকে সেকেন্ডারি সেল বলে। এ জাতীয় সেলকে সঞ্চরী সেলও বলা হয়। সেকেন্ডারি দেশে বৈদ্যুতিক শক্তি রাসায়নিক শক্তিরূপে জমা থাকে, তাই একে স্টোরেজ সেল বলা হয়। মোটরযানের প্রাথমিক বিদ্যুৎ শক্তির উৎস হলো স্টোরেজ ব্যাটারি বা সেকেন্ডারি ব্যাটারি, যা সেকেন্ডারি সেলের সমন্বয়ে গঠিত। নিকেল-ক্যাডমিয়াম সেলের সুবিধা নিবেশ-ক্যাডমিয়াম সেল সহজে বহনযোগ্য ও মোবাইল ইলেকট্রনিক সামরীতে বহুল ব্যবহৃত এক ধরনের সেকেয়ারি সেল। অনেকগুলো সুবিধার জন্য বর্তমানে নিকেশ আডমিয়াম সেল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।অন্য পোষ্ট : কন্ডুইট ওয়্যারিং - সারফেস ওয়্যারিং - কনসিল্ড ওয়্যারিং - কন্ডুইট ওয়্যারিং কত প্রকার
এ দেশের ব্যবহারে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায় তা নিম্নরূণ
১. প্রতিটি সেলেরই এ, এফ ১.২ ভোল্ট হয় বলে কম ভোল্টেজের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীতে ব্যবহার করা যায়। ২. সেনগুলো ডিসচার্জ অবস্থায় পড়ে থাকলেও ক্ষতি হয় না।
৩. একই ক্যাপাসিটির লিড লিঙ্ক অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারির ওজন কম ও মাহবু
৪. বক্ষণ সহজ ও দেৱামত খরচ কম।
৫. পর্নডিসচার্জ না হওয়া পর্যন্ত ইএমএস থাকে।
৬. এটি ওভার চার্জিং, ওভার ডিসচার্জিং অথবা আদর্শ যন্ত্রপাতিতে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়।
ব্যাটারির রেটিং
ব্যাটারির রেটিংঃ ব্যাটারির রেটিং বলতে এর ভোল্টেজ, অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্যাপাসিটি, ডিসচার্জ হার বা রেট ইত্যাদিকে বোঝায়। ব্যাটারির রেটিং-এ এর ভোল্টেজ ক্যাপাসিটি, অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্যাপাসিটি অর্থাৎ কত ঘণ্টায় কী পরিমাণ অ্যাম্পিয়ার সরবরাহ দিতে সক্ষম, কীভাবে চার্জ করতে হবে তা উল্লেখ থাকবে। একটি ব্যাটারির রেটিং ১২ ভোল্ট, ৮০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার বলতে বোঝায়, এটি ১২ ভোল্টের লোডে সংযুক্ত করা যাবে এবং লোড ৮ অ্যাম্পিয়ার হারে ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। ব্যাটারির রেটিং দুভাবে প্রকাশ করা হয়।(ক) কারেন্ট রেটিং এবং
(খ) ভোল্টেজ রেটিং।
কারেন্ট রেটিং :
কোনো নির্দিষ্ট হারে ব্যবহৃত সময়ে কারেন্ট সরবরাহের ক্ষমতাকে ব্যাটারির কারেন্ট রেটিং বলে। এটি ব্যাটারির গঠনের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ সেলে ব্যবহৃত অ্যাকটিভ পদার্থের পরিমাণ ও গুণাগুণের উপর নির্ভর করে।
ভোল্টেজ রেটিং :
কোনো নির্দিষ্ট হারে ব্যবহৃত সময়ের জন্য ভোল্টেজ সরবরাহের ক্ষমতাকে ব্যাটারির ভোল্টেজ রেটিং বলে। এটি ব্যাটারিতে ব্যবহৃত অ্যাকটিভ পদার্থের ধরন ও গুণাগুণের ধরন ও গুণাগুনের উপর নির্ভর করে।
ব্যাটারির ক্যাপাসিটি যে বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে ব্যাটারির ভোল্টেজ ক্যাপাসিটি ব্যাটারির ধরন অর্থাৎ ব্যবহৃত ইলেকট্রোড ও ইলেকট্রোলাইটের ধরনের উপর এবং ব্যাটারির সংযোগের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। ব্যাটারির ভোল্টেজ ক্যাপাসিটি সেলের ধরন ও ইলেকট্রোলাইটের ক্ষমতা বা কার্যকারিতার উপর নির্ভর করে। আর অ্যাম্পিয়ার ক্যাপাসিটি অ্যাকটিভ পদার্থের পরিমাণ (আয়তন) ও গুণাগুণের উপর। লিড অ্যাসিড ব্যাটারির প্রতি সেলের ভোল্টেজ রেটিং ২.০ ভোল্ট। নিকেল-ক্যাডমিয়াম সেলের ১.২ ভোল্ট, ড্রাই সেলের ১.৫ ভোল্ট ইত্যাদি । চার্জযুক্ত একটি ব্যাটারি যে পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি (অ্যাম্পিয়ার আওয়ার) সরবরাহ করতে সক্ষম তাকে ব্যাটারির ক্যাপাসিটি বলে। ব্যাটারির রেটিং এর ডিসচার্জ রেট, তাপমাত্রা, ইলেকট্রোলাইটের ঘনত্ব, অ্যাকটিভ পদার্থের পরিমাণের উপরও নির্ভর করে।
ব্যাটারির ক্যাপাসিটি বা ক্ষমতা যেভাবে প্রকাশ করা হয় তাকে ব্যাটারির রেটিং বলে। ১০ ভোল্ট ১২.০ অ্যাম্পিয়ার ক্যাপাসিটির একটি ব্যাটারি ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে সক্ষম হলে তার রেটিং হবে, ১০ ভোল্ট, ১২০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার । অর্থাৎ ১২ ভোল্টের একটি ব্যাটারি ১০.৮ ভোল্ট পর্যন্ত ২০ ঘণ্টা যাবৎ ৫ অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহে সমর্থ হলে তার রেটিং হবে- ১২ ভোল্ট, ১০০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার।
অন্য পোষ্ট : চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি - ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং - চ্যানেল ওয়্যারিং
ব্যাটারির রেটিং লেখার নিয়ম :
ব্যাটারির রেটিং ভোল্টেজ, অ্যাম্পিয়ার আওয়ার, ব্যাটারির সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হয় । এতে ওজন এবং উৎপাদিত সংস্থার নাম লেখা থাকে।যেমন : ব্যাটারির রেটিং ২৪ ভোল্ট, ১২০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার, ৭২ প্লেট এবং ৬ সেল বিশিষ্ট হতে পারে। এর
ওজন ৭০ কেজি, ভলবো কোম্পানির।
সমস্যা ও সমাধান :
সমস্যা-১ :_প্রতিটি_২.০_ভোল্ট ১০_অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার_ক্ষমতার_তিনটি_সেল_সিরিজ_সংযোগ_করলে_রেটিং_কত_হবে?সমাধান : আমরা জানি, সেলের সিরিজ সংযোগে ভোল্টেজ বাড়ে এবং কারেন্ট ক্যাপাসিটি একই থাকে। সুতরাং প্রতিটি ২.০ ভোল্ট ১০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার তিনটি সেল সিরিজে সংযোগ করলে ভোল্টেজ রেটিং হবে, ২.০ ভোল্ট+২.০ ভোল্ট+২.০ ভোল্ট = ৬.০ ভোল্ট। অতএব, ব্যাটারির রেটিং হবে, ৬.০ ভোল্ট, ১০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। (উত্তর)।
সমস্যা- ২: প্রতিটি ২.০ ভোল্ট ১০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার (Ah) ক্ষমতার তিনটি সেল প্যারালালে সংযোগ করলে রেটিং কত হবে?
সমাধান : আমরা জানি সেলের প্যারালাল সংযোগে ভোল্টেজ এক থাকে এবং কারেন্ট ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি পায়। সুতরাং প্রতিটি ২.০ ভোল্ট ১০ অ্যাম্পিউটার-আওয়ার ক্ষমতার তিনটি সেল প্যারালালে সংযোগ করলে ভোল্টেজ রেটিং হবে, ২.০ ভোল্ট এবং অ্যাম্পিয়ার আওয়ার রেটিং হবে ১০x৩= ৩০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার। অতএব, ব্যাটারির রেটিং হবে, ২.০ ভোল্ট, ৩০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। (উত্তর)।
