ব্যাটারি সেল কি - ব্যাটারি সেল কাকে বলে - ব্যাটারি সেল কত প্রকার

ব্যাটারি সেল কি - ব্যাটারি সেল কাকে বলে - ব্যাটারি সেল কত প্রকার

ব্যাটারি সেল কি - ব্যাটারি সেল কাকে বলে - ব্যাটারি সেল কত প্রকার

ব্যাটারি সেল কি - ব্যাটারি সেল কাকে বলে - ব্যাটারি সেল কত প্রকার

সেলের সংযোগ

সেলের সংযোগ। অনেক ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সিস্টেমে ভোল্টেজ ও কারেন্ট এর পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য কতগুলো বা প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেলকে একত্রে সংযোগ করার প্রয়োজন হয়। একে সেলের সংযোগ বলে। সেলের এরূপ সংযোগকে একত্রে ব্যাটারির বলা হয়। ভোল্টেজ বৃদ্ধি, কারেন্ট বা ভোল্টেজ ও কারেন্ট উভয়ই বৃদ্ধির চাহিদার উপর নির্ভর করে সেলের সংযোগ করা হয়।
সেল সংযোগের শ্রেণিবিভাগ :
সেনকে সাধারণত তিনভাবে সংযোগ বা গ্রুপিং করা হয়ে থাকে।
১. সিরিজ সংযোগ,
২. প্যারালাল সংযোগ এবং
৩. সিরিল-প্যারালাল বা মিশ্র সংযোগ।

 ব্যাটারি সেল কি - ব্যাটারি সেল কাকে বলে - ব্যাটারি সেল কত প্রকার

সেল সংযোগের প্রয়োজনীয়তা 

সেলের সিরিজ সংযোগে ভোল্টেজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, আর প্যারালাল সংযোগে কারেন্ট এবং মিশ্র সংযোগে ভোল্টেজ ও কারেন্ট উভয়ই বৃদ্ধি পায়। লোডের প্রয়োজন অনুযায়ী বা ব্যবহারিক ক্ষেত্র অনুসারে সেলের প্রয়োজনীয় সংযোগ করে ব্যাটারি তৈরি করা হয় । প্রতিটি ড্রাই সেলের ইএমএফ ১.৫ ভোল্ট, নিকেল ক্যাডমিয়াম সেলের ইএমএফ ১.৪ ভোল্ট এবং নিড অ্যাসিড সেলের এইএমএফ ২.০ ভোল্ট হয়। আর অ্যাম্পিয়ার ক্যাপাসিটি সীমিত। ব্যবহারিক ক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুসারে কতকগুলো সেলকে নিয়ম অনুযায়ী (সিরিজ বা প্যারালাল বা মিশ্র) সংযোগ করে ভোন্টেজ ও অ্যাম্পিয়ার ক্যাপাসিটি বাড়াতে সেলের সংযোগ করা হয়। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেলের সংযোগ বা গ্রুপিং খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সেলের সিরিজ সংযোগ যখন সেলগুলোর মধ্যে ১মটির ঘৃণাত্মক প্রাপ্ত ২য়টির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে
আবার ২য়টির ঋণাত্মক প্রান্ত তয়টির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে এভাবে পরপর সংযোগ করা হয়, তখন সেলগুলোর এরূপ সংযোগকে সিরিল সংযোগ বলে। নিচে ৮.১ নং চিল্লো সেলের সিরিজ সংযোগ চিত্র দেখানো হয়েছে।

সেলের সিরিজ সংযোগের গুরুত্ব 

সচরাচর বাজারে প্রাপ্ত সেলের ভোল্টেজ ১.৫ ভোল্ট। প্রায় সকল ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদি/যন্ত্রপাতির ভোল্টেজ রেটিং বেশি থাকে। বেশি ভোল্টেজ রেটিং এর যন্ত্রপাতি চালাতে বেশি ভোল্টেজের ব্যাটারি প্রয়োজন হয়। সেলের সিরিজ সংযোগে ব্যাটারির ভোল্টেজ বৃদ্ধি পায়। লোডের প্রয়োজন অনুযায়ী ভোল্টেজ বাড়াতে সেলের সিরিজ সংযোগ করা হয়। এ সংযোগে কারেন্ট ক্যাপাসিটি একই থাকে অর্থাৎ সার্কিটে প্রবাহিত করেন্ট প্রতিটি সেলের সমান হয়। লোডের ভোল্টেজ বেশি প্রয়োজন হলে সেলের সিরিজ সংযোগে ব্যাটারি তৈরি করা হয়। ৮.১ নং চিত্র অনুযায়ী প্রতিটি ১.৫ ভোল্ট এর সেল সিরিজে সংযুক্ত করায় আউটপুটে ৪.৫ ভোল্ট পাওয়া যায়। নিচের চিত্র ৮.২ তে গোডসহ n সংখ্যক সেলের সিরিজ গ্রুপিং দেখানো হয়েছে।

ধরি সিরিজে সংযুক্ত প্রতিটি সেলের ইএমএফ = E
প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ রোখ=r সংযুক্ত লোডের রোধ = R
তড়িৎ প্রবাহ = I
এবং সংযুক্ত সেলসা = n
তাহলে সিরিজে সংযুক্ত সেলের ইএমএফ – ne
বর্তনীর অভ্যন্তরীণ রোধ =nr বর্তনীর মোট রোষ = Rinr
বর্তনীতে প্রবাহিত কারেন্ট, I =15v R+nr
সবই প্রচলিত অর্থ বহন করে এবং সাধারণ এককে প্রকাশিত।
সমস্যা- ১ : প্রতিটি ১.৫ ভোল্ট ক্ষমতার চারটি সেল সিরিজে সংযোগ করলে ভোল্টেজ রেটিং কত হবে? সমাধান : আমরা আনি, সেলের সিরিজ সংযোগে ভোল্টেজ বাড়ে। সুতরাং, প্রতিটি ১.৫ ভোল্ট ক্ষমতার চারটি সেল সিরিজে সংযোগ করলে ভোল্টেজ রেটিং হবে, (১.৫ ভোল্ট +১.৫ ভোল্ট + ১.৫ ভোল্ট + ১.৫ ভোল্ট) = ৬.০ ভোল্ট।

ব্যাটারি সেল কি - ব্যাটারি সেল কাকে বলে - ব্যাটারি সেল কত প্রকার

সেলের অভ্যন্তরীণ রোধ কম হলে সেলের সিরিজ সংযোগ বেশি কার্যকরী হয়।
অতএব ব্যাটারির ভোল্টেজ রেটিং হবে, ৬.০ ভোল্ট। (উত্তর)। সমস্যা- ২০২ ভোল্ট ইএমএফ এবং.০৫ রহম অভ্যন্তরীণ রেজিস্ট্যাপ ৪টি সেল সিরিজে সংযোগ করে ৫ ওহম লোডের সাথে যুক্ত করা হলো। লোডের মধ্য দিয়া কত কারেন্ট প্রবাহিত হবে।
সমাধান। আমরা জানি, সেলের সিরিজ সংযোগে লোডে প্রবাহিত কারেন্ট, I =
এখানে দেয়া আছে, প্যারালালে সংযুক্ত প্রতিটি সেলের ইএমএফ B = ২ ভোল্ট প্রতিটি সেলেল অভ্যন্তরীণ রোধ, ০৫ ওহম
R+nr
তড়িৎ প্রবাহ = I
এবং সংযুক্ত সেল সংখ্যা n =
অতএব, লোডে প্রবাহিত কারেন্ট,
উত্তর: লোডে প্রবাহিত কারেন্ট ১.৫৩৮ অ্যাম্পিয়ার।
সেলের প্যারালাল সংযোগ যখন কতকগুলো সেলের পজিটিভ বা ধনাত্মক প্রান্তকে এক বিন্দুতে এবং নেগেটিভ বা ঋণাত্মক প্রাপ্তগুলো অন্য আর এক বিন্দুতে সংযোগ করা হয়, তখন তাকে সেলের প্যারালাল সংযোগ বলে। প্যারালালে সংযুক্ত সেলসমূহের ইএমএফ একই হওয়া আবশ্যক। তা না হলে লোডে সংযুক্ত না করলেও ব্যাটারির ক্ষমতা কমে যাবে।


অন্য পোষ্ট : ওয়্যারিং টেস্টিং - fixed wiring testing - ইনসুলেশন কি - insulation foam

সেলের প্যারালাল সংযোগের গুরুত্ত্ব

আমরা যে সমস্ত ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদি / যন্ত্রপাতি ব্যবহার করি সেগুলোর ভোল্টেজ রেটিং ও কারেন্ট রেটিং একই হয় না। লোডের প্রয়োজন অনুযায়ী কারেন্ট প্রবাহ বাড়াতে সেলের প্যারালাল সংযোগ করা হয়। অর্থাৎ যে সমস্ত যন্ত্রপাতির জন্য বেশি কারেন্ট প্রয়োজন হয় সে সমস্ত যন্ত্রপাতি পরিচালনার সেলের প্যারালাল সংযোগ একান্ত প্রয়োজন। সেলের প্যারালাল সংযোগে ব্যাটারির ভোল্টেজ একই থাকে এবং কারেন্ট প্রবাহ বাড়াতে সেলের প্যারালাল সংযোগ করা হয়। সেলের প্যারালাল সংযোগে প্রতিটির ইএমএক বা বিভব পার্থক্য একই হওয়া প্রয়োজন। এ সংযোগে প্রবাহিত মোট কারেন্ট সবগুলো সেলের কারেন্টের যোগফলের সমান। অর্থাৎ ব্যাটারির কারেন্ট ক্যাপাসিটি বাড়ে। দীর্ঘ সময় লোড চালানোর জন্য সেলের প্যারালাল সংযোগ করা হয়। লোডের কারেন্ট বেশি প্রয়োজন হলে প্যারালাল সংযোগে ব্যাটারি তৈরি করা হয়।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url