ক্যাপাসিটর - ক্যাপাসিটর কাকে বলে - ক্যাপাসিটর কি - ক্যাপাসিট্যান্স কাকে বলে

 ক্যাপাসিটর - ক্যাপাসিটর কাকে বলে - ক্যাপাসিটর কি - ক্যাপাসিট্যান্স কাকে বলে 
ক্যাপাসিটর - ক্যাপাসিটর কাকে বলে - ক্যাপাসিটর কি - ক্যাপাসিট্যান্স কাকে বলে

ক্যাপাসিটর ও ক্যাপাসিট্যান্স  

ক্যাপাসিটর - ক্যাপাসিটর কাকে বলে - ক্যাপাসিটর কি - ক্যাপাসিট্যান্স কাকে বলে


ক্যাপাসিটর ক্যাপাসিটর এমন একটি ডিভাইস যা বৈদ্যুতিক চার্জ ধরে রাখতে পারে। দুই বা অধিক সমাপ্তরাল পরিবাহী পাত অপরিবাহী মাধ্যম দিয়ে পৃথক করে ক্যাপাসিটর তৈরি করা হয়। ক্যাপাসিটরের চার্জ ল ধারণ ক্ষমতা এর আকৃতি, প্রকৃতি এবং ব্যবহৃত ডাই-ইলেকট্রিক মাধ্যমের উপর নির্ভর করে ক্যাপাসিটরকে সাধারণত ইংরেজি অক্ষর 'C' প্রতীক ল দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ইলেকট্রনিক সার্কিটে ক্যাপাসিটর বহুল ব্যবহৃত হয়। খুব সাধারণ গঠন এবং দামেও কম এই উপাদান দিয়ে ইলেকট্রনিক সার্কিটের সুইটিং, বিশুদ্ধ ডিসি তৈরি ইত্যাদির কাজ করা হয়। ক্যাপাসিটরের অপর নাম ধারক। 


ক্যাপাসিট্যান্স ও এর বিভিন্ন একক : 

ক্যাপাসিটরের প্রধান কাজ বৈদ্যুতিক চার্জ ধরে রাখা ক্যাপাসিটরের চার্জ ধারণ ক্ষমতা এর আকার, আকৃতি এবং ব্যবহৃত ডাই-ইলেকট্রিক মাধ্যমের উপর নির্ভর করে। ক্যাপাসিটরের চার্জ ধারণ করার সামর্থ্য বা ক্ষমতাকে ক্যাপাসিট্যান্স বা ধারকত্ব বলে। কোনো ক্যাপাসিটরের ভোল্টেজ এক একক বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ চার্জের প্রয়োজন হয়, তাকে উক্ত ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স বা ধারকত্ব বলে। ক্যাপাসিট্যান্সকে ‘c’ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। মনে করি, কোনো ক্যাপাসিটরের ভোল্টেজ v ভোল্ট বাড়াতে Q কুলম্ব চার্জেও প্রয়োজন হয়, তবে ঐ ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স C= V ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স পরিমাপের একক হলো কুলম্ব/ ভোল্ট। একে ফ্যারাড (F) দ্বারা প্রকাশ করা হয় সুতরাং এক ফ্যারাড(IF) = এক বুল/ ভোল্ট। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ফ্যারাড একটি বড় একক। তাই এর দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগকে ক্যাপাসিট্যান্সের একটি ব্যবহারিক একক হিসাবে ধরা হয়। এই এককের নাম মাইক্রোফ্যারাড। একে সংক্ষেপে গ্রিক অক্ষর মিউ (4) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

1F = 10% LF (মাইক্রো ফ্যারাড), এ ছাড়াও আরও কিছু ব্যবহারিক একক আছে, যেমন ন্যানো ফ্যারাড, পিকো ফ্যারাড। ফ্যারাডের সাথে তাদের সম্পর্ক নিম্নরূপ 

1F = 10° nF( ন্যানো ক্যারাড); 1F = 102 pF (পিকো ফ্যারাড)

ক্যাপাসিটর - ক্যাপাসিটর কাকে বলে - ক্যাপাসিটর কি - ক্যাপাসিট্যান্স কাকে বলে


ক্যাপাসিটরের শ্রেণি বিভাগ:  

ক্যাপাসিটরের গঠন, বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ক্যাপাসিটরকে প্রধাণত ৩ ভাগে ভাগ করা যায় ।


(ক) নির্দিষ্টমানের ক্যাপাসিটর বা ফিক্সড ক্যাপসিটর 

(খ) পরিবর্তনীয় মানের ক্যাপাসিটর বা ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর।

(গ) সুবিন্যাস্ত ক্যাপাসিটর বা অ্যাডজাস্টেবল ক্যাপাসিটর।


অন্য পোষ্ট : ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার 


(ক) নির্দিষ্টমানের ক্যাপাসিটর 

 এ ধরনের ক্যাপাসিটরের মান নির্দিষ্ট থাকে বলে এদের নির্দিষ্টমানের ক্যাপাসিটর বা ফিক্সড ক্যাপাসিটর বলে।ব্যবহৃত ডাই-ইলেকট্রিক এর উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্টমানের ক্যাপাসিটর আট প্রকার হয়ে থাকে। যেমন

(১) পেপার ক্যাপাসিটর, 

(২) মাইকা ক্যাপাসিটর 

(৩) সিরামিক ক্যাপাসিট

(৪) গ্লাস ক্যাপাসিটর

(৫) ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর

(৬) অয়েল ক্যাপাসিটর

(৭) এয়ার ক্যাপাসিটর

(৮) টেনটেলাম ক্যাপাসিটর।


(খ) অ্যাডজাস্টেবল ক্যাপাসিটর : 

নির্দিষ্ট কোনো কাজের ক্ষেত্রে অনেক সময় বাজারে প্রয়োজনীয় মানের ক্যাপাসিটর পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে কতকগুলো ক্যাপাসিটর গ্রুপিং (সিরিজ/প্যারালাল) করে যে ক্যাপাসিটর তৈরি করা হয় তাকে অ্যাডজাস্টেবল ক্যাপাসিটর বলে। অনেক সময় সার্কিটে নির্দিষ্ট মানের ক্যাপাসিটর দরকার হয়, অথচ ফিক্সড বা ভ্যারিয়েবল/পরিবর্তনশীল টাইপের সঠিক মানের ক্যাপাসিট্যান্স পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে প্রায় সময়ই ঐ ক্যাপাসিটরগুলোর সাথে অ্যাডজাস্টেবল ক্যাপাসিটরকে প্রয়োজনমতো সিরিজ বা প্যারালালে যুক্ত করে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ডাই-ইলেকট্রিকের ব্যবহার অনুযায়ী অ্যাডজাস্টেবল ক্যাপাসিটর দু প্রকারের। যেমন

১. এয়ার টিউন্ড এবং 

২. মাইকা টিউন্ড।


ক্যাপাসিটর - ক্যাপাসিটর কাকে বলে - ক্যাপাসিটর কি - ক্যাপাসিট্যান্স কাকে বলে


(গ) ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর :

 যে ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স এর মান পরিবর্তন করা যায়, তাকে ভ্যারিয়েবল বা পরিবর্তনশীল ক্যাপাসিটর বলে। এ ধরনের ক্যাপাসিট্যান্স এর মান সর্বনিম্ন হতে সর্বোচ্চ পর্যন্ত নেয়া যায়। ক্যাপাসিট্যান্স এ পরিবর্তন প্লেট- এর ক্ষেত্রফল, তাদের দুরত্ব এবং ডাই-ইলেকট্রিক পদার্থের উপর নির্ভর করে । ট্রিমার ক্যাপাসিটর ও গ্যাংগ ক্যাপাসিটর যে কোনো ব্যান্ডের রেডিওতে ব্যবহৃত হয়। ক্যাপাসিটর এর মানের পরিবর্তন করে আকাঙ্ক্ষিত সিগনাল নির্বাচন ও নির্বাচিত সিগনালকে নিখুঁত পাওয়ার জন্য টিউন্ড করতে এ ক্যাপাসিটর ব্যবহৃত হয়।


ক্যাপাসিটর এর ব্যবহার : 

বিভিন্ন ধরনের ক্যাপাসিটর-এর ব্যবহার নিচে উল্লেখ করা হলো


(ক) ফিক্সড ক্যাপাসিটর :

এ ধরনের ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্সের যান সর্বদা নির্দিষ্ট থাকে।


  • মাইকা ক্যাপাসিটর : 

এ ধরনের ক্যাপাসিটর মূলত রিসিভার ও ট্রান্সমিটার যন্ত্রের আর এফ (RF) সার্কিটে ব্যবহৃত হয়।



অন্য পোষ্ট : electrician hand tools - electrical hand tools - mechanical electrical tools


  • পেপার ক্যাপাসিটর : 

এ ধরনের ক্যাপাসিট সাধারণত নিম্ন ও মাঝারি মানের ফ্রিকোয়েন্সি যেমন অডিও ফ্রিকোয়েন্সীর সার্কিটে বিশেষ করে অডিও অ্যামপ্লিফায়ার এবং পাওয়ার সাপ্লাই সার্কিটে ব্যবহৃত হয়। 


  • সিরামিক ক্যাপাসিটর: 

সাধারণত: উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির সার্কিটে যেখানে তাপমাত্রার পরিবর্তন অধিক সেখানে এই ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়।


  • ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর: 

উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির ক্ষেত্রে এই ক্যাপাসিটর ব্যবহৃত হয় ।


১. ভোল্টেজ ডাবলার হিসেবে,


২. রেকটিফায়ারের ফিল্টার সার্কিটের রিপল দূর করার জন্য, 


৩. সার্কিটের টাইম পিরিয়ড বাড়ানোর জন্য,


৪. খুব কম পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহ মাপার জন্য


৫. ট্রিগারিং পালস্ তৈরি করতে,


৬. ডিফারেনসিয়েটিং সার্কিট তৈরি করতে ইত্যাদি।


(খ) অ্যাডজাস্টেবল ক্যাপাসিটর

এই ধরনের ক্যাপাসিটরের ব্যবহার


১. রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি মেরামত করতে। 


২. নতুন মানের ক্যাপাসিটর তৈরি করতে ক্যাপাসিটর গ্রুপিং এর সময়।


নিচে উল্লেখ করা হলো


(গ) ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর : 


গ্যাংগড ক্যাপাসিটর হিসেবে পরিচিত, এ ক্যাপাসিটরগুলো রেডিও সার্কিটে টিউনিং এর কাজে ব্যবহৃত হয়।



ক্যাপাসিটর গ্রুপিং


ক্যাপাসিটর গ্রুপিং : প্রয়োজনীয় সংখ্যক (একাধিক) ক্যাপাসিটরের নিয়ম অনুযায়ী (সিরিজ বা প্যারালাল বা মিশ্র) সংযোগ করার পদ্ধতিকে ক্যাপাসিটর গ্রুপিং বলে। গ্রুপিং করা বা সমতুল্য ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স বাড়ানো বা কমানোর জন্য ক্যাপাসিটর-এর গ্রুপিং করা হয়। ক্যাপাসিটর গ্রুপিং এর ধরনের উপর ক্যাপাসিট্যান্স নির্ভর করে ।


ক্যাপাসিটর গ্রুপিং এর শ্রেণিবিভাগ: 


প্রয়োজন অনুসারে মোট ক্যাপাসিট্যান্স এর মান বাড়ানো বা কমানোর জন্য দুভাবে ক্যাপাসিটরের গ্রুপিং করা হয়। ক্যাপাসিটর গ্রুপিং দুই প্রকার।


১. সিরিজ গ্রুপিং।


২. প্যারালাল গ্রুপিং


সিরিজে সংযোজিত একাধিক ক্যাপাসিটরের মোট ক্যাপাসিট্যান্স : 


যখন কতকগুলো ক্যাপাসিটরকে এমনভাবে সংযোগ বা গ্রুপিং করা হয় যাতে ১ম টির ২য় প্রাপ্ত, ২য় টির ১ম প্রান্তের সাথে, পরপর এভাবে যুক্ত থাকে এবং ১ম ক্যাপাসিটরের ১ম প্রাপ্ত ও শেষ ক্যাপাসিটরের ২য় প্রাপ্ত সাপ্লাইয়ের সাথে যুক্ত থাকে তখন সে সংযোগ বা গ্রুপিং বলে । সার্কিটের প্রয়োজনে উচ্চ বিভব পার্থক্য সৃষ্টির জন্য ক্যাপাসিটরের সিরিজ গ্রুপিং করা হয়।


সিরিজ সংযুক্ত প্রতি ক্যাপাসিটরের আড়াআড়ি ভোল্টেজ আলাদা এবং চার্জ একই থাকে যা ক্যাপাসিট্যান্স-এর উপর নির্ভর করে।



অন্য পোষ্ট : প্রাথমিক চিকিৎসা - বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা - প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা


প্যারালালে সংযোজিত একাধিক ক্যাপাসিটরের মোট ক্যাপাসিট্যান্স:


 যখন কতকগুলো ক্যাপাসিটরকে এমনভাবে সংযোগ বা গ্রুপিং করা হয়, যাতে প্রত্যেক ক্যাপাসিটরের ১ম প্রাপ্তসমূহ একত্রে এবং ২য় প্রাপ্তসমূহ একত্রে যুক্ত থাকে, তখন সে সংযোগ বা গ্রুপিংকে ক্যাপাসিটরের প্যারালাল সংযোগ বা গ্রুপিং বলে। ২.৩ নং চিত্রে ক্যাপাসিটরের প্যারালাল বা সমান্তরাল সংযোগ করা হয়।


প্যারালাল সংযুক্ত প্রতিটি ক্যাপসিটরের আড়াআড়ি ভোল্টেজ একই এবং চার্জ ভিন্ন ভিন্ন থাকে, যা ক্যাপসিট্যান্স উপর নির্ভর করে।


ধরি, C, এর চার্জ Q এবং C2 এর চার্জ Q2

মোট চার্জ Q = Q1 + Q2

বা, Q = CV + C2V

বা, Q = V(C) + C2)

বা, C‡V=V( C] + C2) (Q =CV)

বা, C = C1 + Ca

এখানে C হলো প্যারালালে সংযুক্ত ক্যাপাসিটর সমূহের সমতুল্য ক্যাপাসিট্যান্স ।

সুতরাং প্যারালালে সংযুক্ত n সংখ্যক ক্যাপাসিটরের জন্য সমতুল্য ক্যাপাসিট্যান্স

Cp = C1 + C2 + -------+Cn.

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url