নাইফ সুইচ - তারের জয়েন্ট কত প্রকার - টিউব লাইট - টিউব লাইট মানে কি

 নাইফ সুইচ - তারের জয়েন্ট কত প্রকার - টিউব লাইট - টিউব লাইট মানে কি

নাইফ সুইচ - তারের জয়েন্ট কত প্রকার - টিউব লাইট - টিউব লাইট মানে কি

বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র

নিয়ন্ত্রণ -যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ -বলতে -আমরা -সাধারণত_ বুঝি কোনো _কিছুকে_নিজের-আয়ত্তের_ মধ্যে _রাখা- বা যখন_ প্রয়োজন_ তখন -ব্যবহার _করার -সুযোগ- তৈরি করা। কিন্তু_ বৈদ্যুতিক- সিস্টেমে -নিয়ন্ত্রণ _যন্ত্র _হিসেবে সাধারণত _সুইচ ও সার্কিট _ব্রেকারের _অপারেশনকে বোঝায়_ যার_ সাহায্যে _কোনো _বৈদ্যুতিক সার্কিটকে প্রয়োজনমতো _অন- বা -অফ -করা -যায়। বৈদ্যুতিক সিস্টেমে কোনো সার্কিট বা লোডের সংযোগ দেওয়া ও বিচ্ছিন্ন করার _কৌশলকেই_ নিয়ন্ত্রণ _বলে। যে সকল ফিটিংস বা ডিভাইস _ব্যবহার করে _সার্কিটের কারেন্ট প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ _বা অফ-অন করা যায়, সে সকল ডিভাইস _বা ফিটিংসকে_ নিয়ন্ত্রণ _যন্ত্র বলে। নিয়ন্ত্রণ -যন্ত্র হিসেবে সাধারণত _সুইচকে বেশি ব্যবহার করা হয় কিন্তু আজকাল_ সুইচ ছাড়াও_ সার্কিট ব্রেকার, এমসিবি, -টাইমার ও _রিলে, গেট _ইত্যাদি _ব্যবহার _হয়ে -থাকে।

নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের গুরুত্ব:

বৈদ্যুতিক সিস্টেমে লোডের যথাযথ ব্যবহারের জন্য নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের গুরুত্ব খুব বেশি। কেননা যদি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র না থাকত তাহলে বৈদ্যুতিক সিস্টেমে কোনো লোড চালু করলে শুধু চালুই থাকত বা বন্ধ করলে শুধু বন্ধই থাকত। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবহার করতে পারতাম না। নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়। যেমন শীতকালে ফ্যানের প্রয়োজন হয় না, তাই ফ্যান বন্ধ রাখা হয়। দিনের বেলায় তেমন আলোর প্রয়োজন হয় না, তাই লাইট এর সুইচ বন্ধ রাখা হয়। তাছাড়া নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রবিহীন সার্কিট আদৌ নিরাপদ নয়। তাই বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় প্রত্যেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। সুতরাং নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।


নাইফ সুইচ - তারের জয়েন্ট কত প্রকার - টিউব লাইট - টিউব লাইট মানে কি

নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তালিকা :

বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে বৈদ্যুতিক সার্কিটে ব্যবহৃত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে । সকল নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রকে এদের গঠন ও কার্যনীতি অনুসারে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
১। মেকানিক্যাল নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা সুইচ,
২। ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এবং
৩। ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ।
মেকানিক্যালি নিয়ন্ত্রিত সুইচকে প্রধানত দুভাবে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) নাইফ সুইচ ও
(খ) টাম্বলার সুইচ।
গঠন, কার্যকারিতা এবং ব্যবহার অনুযায়ী নাইফ সুইচকে আট ভাগে ভাগ করা যায়। যথা
১। মেকানিক্যাল নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা সুইচ
১. কুইক-ব্রেক সুইচ।
২. স্লো-ব্রেক সুইচ।
৩. ট্রিপল পোল সুইচ।
৪. সিঙ্গেল ব্রেক সুইচ।
৫. ডাবল ব্রেক সুইচ।
৬. সিঙ্গেল পোল সুইচ।
৭. ডাবল পোল সুইচ।
৮. আয়রন ক্ল্যাড সুইচ
টাম্বলার সুইচকে গঠন, কার্যকারিতা এবং ব্যবহারের প্রকৃতি অনুসারে আট ভাগে ভাগ করা যায়। যথা
১. ওয়ান ওয়ে সুইচ।
২. টু-ওয়ে সুইচ।
৩. ইন্টারমেডিয়েট সুইচ।
৪. পুশ সুইচ।
৫. ডাবল ব্রেক সুইচ।
৬. সিঙ্গেল পোল সুইচ,
৭. পুল সুইচ,
৮. পুশপুল সুইচ।
ভোল্টেজ গ্রেড অনুযায়ী উল্লেখিত সুইচসমূহকে সাধারণত দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা
ক) ২৫০ ভোল্ট বা নরমাল গ্রেডের সুইচ ও
খ) ৫০০ ভোল্ট বা হাই গ্রেডের সুইচ।
কারেন্ট বহন কার ক্ষমতা অনুযায়ী সুইচকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- ৫ অ্যাম্পিয়ার সুইচ, ১০ অ্যাম্পিয়ার সুইচ, ১৫ অ্যাম্পিয়ার সুইচ, ৬০ অ্যাম্পিয়ার সুইচ, ১০০ অ্যাম্পিয়ার সুইচ ইত্যাদি।

নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার সর্বত্র বিরাজমান। যেখানে বিদ্যুৎ আছে, সেখানে নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। উৎপাদন থেকে শুরু করে বিতরণ এবং গ্রাহক পর্যায়ে এর ব্যবহার বিদ্যামন। নিচে বিভন্ন ধরনের সুইচের ব্যবহার উল্লেখ করা হলো।


অন্য পোষ্ট : আর্থিং কি - আর্থিং এর প্রয়োজনীয়তা কি - ইলেকট্রোড কি - পাইপ আর্থিং

নাইফ সুইচ - তারের জয়েন্ট কত প্রকার - টিউব লাইট - টিউব লাইট মানে কি

১। নাইফ সুইচ:

ক) স্লো-ব্রেক নাইফ সুইচ: মাধ্যম মানের কারেন্টের জন্য এ সুইচ ব্যবহার করা হয়। নিম্ন মানের ও উচ্চ
মানের কারেন্ট ব্যবস্থাপনায় সাধারণত এ সুইচ ব্যবহার করা হয়না।
খ) কুইক ব্রেক নাইফ সুইচ এ সুইচগুলো সাধারণত মেইন সুইচ বোর্ডে ব্যবহার করা হয়। বৈদ্যুতিক মোটর
সার্কিট, বিভিন্ন বৈদ্যুতিক কন্ট্রোল সার্কিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সার্কিট হতে বিচ্ছিন্ন করতে এ সুইচ ব্যবহার করা হয়।
গ) মেইন- সুইচ : মিটার_ বোর্ডের_ পর _থেকে ব্যবহাকারীর _সমগ্র সার্কিটকে _নিয়ন্ত্রণ -করার জন্য এ সুইচ_ ব্যবহার _করা _হয়।
ঘ) সিঙ্গেল পোল সুইচ লাইনের শুধুমাত্র একটি তারের সংযোগ স্থাপন ও বিচ্ছিন্ন করার কাজে এ সুইচ ব্যবহার করা হয়।
ঙ) ডাবল পোল সুইচ : লাইনের দুটি তারের সংযোগ স্থাপন ও বিচ্ছিন্ন করার কাজে এ সুইচ ব্যবহার করা হয়।
চ) ট্রিপল পোল সুইচ লাইনের তিনটি তারের সংযোগ স্থাপন ও বিচ্ছিন্ন করার কাজে এ সুইচ ব্যবহার করা হয়।
ট) আয়রন ক্ল্যাড সুইচ (আই.সি.সুইচ) : আবাসগৃহে বা কারকানায় বা অনুরূপ স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বা বিচ্ছিন্ন করার জন্য মিটার বোর্ডের পরে ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণাধীন এ সুইচ ব্যবহার করা হয়।

২। ট্রাম্বলার সুইচ :

সাধারণ বাতি জ্বালাতে এবং হিটার, ইস্ত্রি প্রভৃতি পাওয়ার সার্কিটে বিভিন্ন অ্যাম্পিয়ারের টাম্বলার সুইচ ব্যবহৃত হয়।
ক) ওয়ান-ওয়ে সুইচ : এ ধরনের সুইচ দুটি তারের মধ্যে সংযোগ সাধন এবং বিচ্ছিন্ন করবার জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণত বাড়ি, পাখা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আবাসিক ঘরে এটি ব্যবহৃত হয়
খ) টু-ওয়ে সুইচ : এ সুইচগুলো সাধারণত একটি বা কয়েকটি বাতি একসঙ্গে দু জায়গা হতে নিয়ন্ত্রণ করার
কাজে ব্যবহৃত হয়। এ উদ্দেশ্যে সিড়ি ঘরের বাতি বা বড় বড় হলো ঘরে যেখানে দুই জায়গা হতে নিয়ন্ত্রণ
করার প্রয়োজন হয়, সে সমস্ত জায়গায় ব্যবহৃত হয়।
গ) ইন্টারমিডিয়েট সুইচ : কোনো বাতিকে তিন বা তাহার অধিক জায়গা হতে নিয়ন্ত্রণ করতে এ ধরনের সুইচ ব্যবহৃত হয়। এর রকম সার্কিটের দু প্রান্তে দুটি টু-ওয়ে সুইচ এবং মাঝখানে প্রয়োজন অনুসারে এক বা একাধিক ইন্টারমিডিয়েট সুইচ ব্যবহার করতে হয়। এটি সাধারণত সিঁড়ি ঘরের বাতি জ্বালানো-নিভানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
ঘ) পুশ পুল সুইচ এ ধরনের সুইচ সাধারণত টেবিল ল্যাম্পে ব্যবহৃত হয়।

নাইফ সুইচ - তারের জয়েন্ট কত প্রকার - টিউব লাইট - টিউব লাইট মানে কি


ঙ) রোটারি সুইচ : এ ধরনের সুইচ সাধারণত বৈদ্যুতিক ওভেন, কুকার, হিটার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া মটরের ঘূর্ণনের দিক পরিবর্তন, বেগ পরিবর্তন এবং সার্কিট কন্ট্রোল করার কাজেও ব্যবহৃত হয়
চ) বেড সুইচ : সাধারণত বিছানায় শুয়ে বাতি জ্বালানো এবং নিভানোর কাজে এ সুইচ ব্যবহার করা হয় ।
ছ) পুশ বাটন সুইচ : এ সুইচগুলো সাধারণত বৈদ্যুতিক মটরে স্টার্টারের সাথে, কলিং বেল সার্কিটে, ল্যাম্প
সার্কিটে ব্যহৃত হয়ে থাকে।

৩. ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র

ক) ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক সুইচ বা ম্যাগনেটিক কন্ট্যাক্ট সাধারণত বৈদ্যুতিক মোটর নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহৃত
হয়।
খ) ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রিলে সাধারণত কোনো নিয়ন্ত্রণ সার্কিটকে শর্ত অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩। ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা ইলেকট্রনিক সুইচ
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সুইচ বাজারে পাওয়া যায়। এগুলো কোনো সার্কিটকে লজিক্যাল কন্ট্রোল, তুলনামূলক কন্ট্রোল, টাইমিং কন্ট্রোল, রিমোট কন্ট্রোল, মাইক্রো কন্ট্রোল ইত্যাদি করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

অন্য পোষ্ট : service entrance cable - service entrance conductors - service entrance

বৈদ্যুতিক তারের জয়েন্ট টেপিং

টেপিং :
বৈদ্যুতিক তারের জয়েন্টের স্থান অপরিবাহী পদার্থ বা ইনসুলেটিং টেপ দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মোড়ানোকে টেপিং বলে। জয়েন্ট এর স্থানে কারেন্ট যেন লিক করতে না পারে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট না হয়, বৈদ্যুতিক শক না লাগে এবং সংযোগস্থল দেখতে ভালো লাগে সেজন্য টেপিং করা হয়।

টেপিং-এর প্রয়োজনীয়তা:

বৈদ্যুতিক কারেন্ট বহনের লক্ষ্যে যে পরিবাহী ব্যবহার করা হয় সে পরিবাহীতে বিভিন্ন কারণে জয়েন্ট দেখার প্রয়োজন হয়, যা অষ্টম অধ্যায়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সংযোগস্থল টেপিং না করে কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক শক থেকে মানুষ মারা পর্যন্ত যেতে পারে। তাই টেপিং-এর যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে নিচের বিষয়গুলো থেক তা সহজেই জানা যাবে।

১. শর্ট সার্কিট কিংবা অন্য কোনো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষার জন্য
২. সংযোগস্থলকে অক্সাইড মুক্ত রাখতে।
৩. সংযোগস্থলের ক্ষয় রোধ করতে।
৪. ব্যবহাকারীর নিরাপত্তা বিধানের জন্য
৫. ওয়্যারিং সার্কিটকে নিরাপদ করতে।
৬. সংযোগস্থল দেখতে ভালো লাগার জন্য টেপিং করা প্রয়োজন ।


নাইফ সুইচ - তারের জয়েন্ট কত প্রকার - টিউব লাইট - টিউব লাইট মানে কি

টিউব লাইট সার্কিট

টিউৰ লাইট সার্কিট টিউব লাইটকে ফ্লোরোসেন্ট ল্যাম্পও বলা হয়। অন্যান্য ল্যাম্পের তুলনায় লাইটের কর্ম ক্ষমতা বেশি। ফ্লোরোসেন্ট টিউব লাইটের সার্কিট কার্যপ্রণালি নিচে বর্ণনা করা হলো।

টিউব

ফ্লোরোসেন্ট ল্যাম্প জ্বালানোর জন্য সুইচ ছাড়া আরও কিছু জিনিসের প্রয়োজন হয়। যেমন:
(১) চোক কয়েল বা ব্যালাস্ট ও
(২) একটি স্বয়ংক্রিয় সুইচ বা স্টার্টার। চোক কয়েল বা ব্যালাস্টকে ন্যাম্পের সাথে সিরিজ সংযোগ করতে হয়। চোক কয়েলের ভিতর দিয়ে এসি কারেন্ট প্রবাহে বাধা দান করে এবং কারেন্ট প্রবাহেকে সীমিত রাখে। পরে ফ্লোরোসেন্ট ল্যাম্পে ব্যালাস্ট বা চোক কয়েল একটি সাধারণ কয়েলের মতো কাজ করে। সুইচ অন করার কয়েক (২-৫) সেকেন্ড পরেই টিউব জ্বলে ওঠে। সুইচ অন করলে প্রথমে স্টার্টার অফ-অন এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে দুটি পাশের ইলেকট্রোডকে গরম করে। ইলেকট্রোড যে মুহূর্তে গরম হয়ে যায়, টিউবের ভিতরে ঐ সময়ে গ্যাসে ইলেকট্রিক ডিসচার্জ শুরু হয়ে যাবে। অল্প সময়ের মধ্যেই স্টার্টারের কন্ট্রাক্ট খুলে গিয়ে টিউবের গ্যাসের মধ্যে কারেন্ট যেতে থাকে। যার ফলে গ্যাস গরম হতে থাকে। টিউবের গ্যাস গরম হলে ভেতরে অতি বেগুনি রশ্মি সৃষ্টি হয়। ঐ রশ্মি ফ্লোরোসেন্ট পাউডারের সাহায্যে স্বতঃপ্রপ্ত হয়ে স্বাভাবিক আলো দিতে থাকে। গ্যাস জ্বলতে জ্বলতে যত গরম হবে গ্যাসের রেজিস্ট্যান্স তত কমে যাবে, তার ফলে কারেন্ট ঐ অনুপাতে বাড়তে থাকে। চোক করেল ঐ বর্ধিত প্রবাহিত কারেন্টে বাধা প্রদান করে টিউব লাইটকে রক্ষা করে। এভাবেই টিউব লাইট কাজ করে থাকে। বর্তমানে অটোমেটিক ইলেক্ট্রনিক স্টর্টারের সাহায্যে টিউব লাইট জ্বালানো হয়। বর্তমানে বাজারে ২ ফুট ২০ ওয়াট; ৪ ফুট ৩৬ ওয়াট; ৫ ফুট ৮০ ওয়াট টিউব লাইট পাওয়া যায়। মিলকরাখানায় বিশেষ করে ঘুরন্ত মেশিনের উপরে একই সেটে দুইটি টিউব লাইট ব্যবহার করা হয়। কারণ, একটি টিউব লাইট ব্যবহার করলে মনে হবে যেন মেশিন উল্টা দিকে ঘুরছে। এই ত্রুটিকে ক্লিকারিং বা আলোকছটা বলে। একই সেটে ২টি টিউব লাইট ব্যবহার করলে এই ত্রুটি দূর হয়।

অন্য পোষ্ট : প্রাথমিক চিকিৎসা - বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা - প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা

করেলের কাজ :

ল্যাম্প জ্বালানোর সময় এতে প্রবাহিত কারেন্ট এর পরিমাণ যেন বেড়ে না যায় তার জন্য একটি লোহার কোরের উপর জড়ানো কয়েল সিরিজে যুক্ত করা হয়। একে ইংরেজিতে চোক কয়েল বলে। কখনও কখনও চোক কয়েলকে ব্যালাস্টও বলা হয়ে থাকে।এটি সাপ্লাই লাইনের দিকে ল্যাম্পের সঙ্গে সিরিজ থাকে। এ করেলের তিনটি অদ্ভুত গুণ আছে। যথা-
১. যখন এসি সরবরাহের সঙ্গে এ কয়েল সংযোগ করা হয়, তখন এটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পরিবর্তনশীল কারেন্ট এর যে কোনো পরিবর্তনকে বাধা দেয়।
২. যখন কয়েলের মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হয়, অর্থাৎ সুইচ অন করা হয়, তখন কয়েলটি ক্ষণিকের জন্য এতে প্রয়োগকৃত ভোল্টেজের বহু গুণ বেশি ভোল্টেজ প্রদান করে ।
৩. টিউব লাইট অলাকালো এতে মাত্র ১১০ ভোল্ট প্রয়োজন হয়। তখন চোক কয়েল (২৩০-১১০) ১২০ ভোল্ট দ্বপ করে।

ফ্লোরোসেন্ট ল্যাম্পে ব্যবহৃত ব্যালাস্ট বিশেষ ধরনের একটি কয়েল। ল্যাম্প জ্বালাতে গেলে দু দিকের ইলেকট্রোড গরম করতে হয়। সেজন্য লাইনের সুইচ অন করলে চোক যে ভোল্টেজ (৮০০ এবং ১০০০ ভোল্ট) তৈরি করে তার ফলে স্টার্টারের মাধ্যমে ইলেকট্রোডের মধ্যে দিয়ে কারেন্ট যায়। ইলেকট্রোড যে মুহুর্তে গরম হয় টিউবের ভিতরেও গ্যাসে তড়িৎ মোক্ষম শুরু হয়। গ্যাস জ্বলতে জ্বলতে গত গরম হবে তার রেজিস্ট্যান্সও তত কমে যাবে। তখন উত্তরোত্তর কারেন্টও বাড়তে থাকবে। কিন্তু চোক কয়েল তা হতে দেয় না। ল্যাম্প জ্বলাকালীন তাতে মাত্র ১১০ ভোল্ট দরকার হয়। বাকি (২৩০-১১০) = ১২০ ভোল্ট চোক কয়েলে ড্রপ হয়। আবার চালু হওয়ার মুহূর্তে স্টার্টার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন হতে গেলে যে অতিরিক্ত ভোল্টেজের (প্রায় ৮০০ ভোল্ট) দরকার হয় তাও চোক কয়েলের সাহায্যে পাওয়া যায়।

নাইফ সুইচ - তারের জয়েন্ট কত প্রকার - টিউব লাইট - টিউব লাইট মানে কি


স্টার্টার-এর কাজ:

স্টার্টার এর প্রধান অংশ হলো দুইটি ধাতুর পাতা। এ পাত দুটি ভিন্ন ধাতুর (যেমন লোহা ও পিতল) পাতলা পাত দিয়ে তৈরি। একে ইংিেজতে বাইমেটাল পাত বলে। এর দুই প্রান্ত টিউবের দুই দিকের ফিলামেন্টের সঙ্গে সিরিজে লাগান থাকে। স্টার্টারের প্রধান কাজ হলো, টিউবের দুই প্রান্তের মধ্যে ক্ষনিকের জন্য শর্ট সার্কিট করে দেয়া। এতে টিউবের দুই প্রান্তের মধ্য দিয়ে অধিক পরিমাণে কারেন্ট প্রবাহিত হয়। ফলে দুই প্রান্তের ফিলামেন্ট গরম হয় এবং টিউবের ভিতরের গ্যাস আয়োনাইজড হয়ে কারেন্ট প্রবাহ শুরু হয়। আর তখনই স্টার্টারের বাইমেটালিক পাড়ের শর্ট সার্কিট খুলে যায়। এ সমস্ত কাজ ঘটতে কয়েক সেকেন্ডের বেশি সময় লাগে না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url