চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি - ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং - চ্যানেল ওয়্যারিং

 চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি - ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং - চ্যানেল ওয়্যারিং
চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি - ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং - চ্যানেল ওয়্যারিং

বৈদ্যুতিক চ্যানেল ওয়্যারিং

চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদক্ষেপসমূহ:
আমাদের দেশে আবাসিক ঘরবাড়ি, দোকান পাট, ছোটখাটো মিল কারখানা ও অফিস-আদালতে চ্যানেল ওয়্যারিং করা হয়। প্লাস্টিক চ্যানেল দ্বারা এই ওয়্যারিং করা হয় বলে, এর নাম চ্যানেল ওয়্যারিং। এই ওয়্যারিং দেখতে সুন্দর এবং দীর্ঘস্থায়ী বলে বর্তমানে আমাদের দেশে বাসা-বাড়ির প্রায় শতকরা ৬০-৭৫ ভাগই চ্যানেল ওয়্যারিং করা হয়। এ জাতীয় ওয়্যারিং এ বিভিন্ন সাইজের ব্যবহার করা হয়। ওয়্যারিং কাজে ব্যবহৃত চ্যানেলের বিভিন্ন অংশ নিচের চিত্রে দেখানো হলো

চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদক্ষেপসমূহ:

চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদক্ষেপসমূহ নিচে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলো
১। প্রথমে ওয়্যারিং লে-আউট করতে হবে।
২। কাজের জন্য প্রয়োজনীয় টুলস সংগ্রহ করতে হবে।
৩। লে-আউট অনুযায়ী সুতার সাহায্যে রঙিন চক/ রঙিন পেন্সিল দিয়ে যে সমস্ত জায়গা দিয়ে চ্যানেল যাবে, সে সমস্ত জায়গায় দাগ টানতে হবে।
৪। লে-আউট অনুযায়ী চ্যানেল, সুইচ বোর্ড, জাংশন বক্স, রাওয়াল প্লাগ, স্ক্রু ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হবে।
৫। লে-আউট অনুযায়ী দেয়াল ও ছাদে চিহ্নিত রেখার উপরে চ্যানেল, সুইচ বোর্ড এবং জাংশন বক্স বসানোর জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী রাওয়াল প্লাগ স্থাপন করতে হবে।
৬। নির্দিষ্ট স্থানে সুইচ বোর্ড এবং জাশন বক্সের বেস ক্রু দিয়ে আটকাতে হবে।
৭। তারপর ক্রু দিয়ে প্রয়োজনীয় সাইজের চ্যানেলের বেস আটকাতে হবে।
৮। বাঁকের স্থানে কর্নার/ বেন্ড বসাতে হবে।
৯। চ্যানেলে তার টেনে চ্যানেলের কভার লাগাতে হবে।
১০। এবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন, সুইচ, সকেট, হোল্ডার, ফিউজ, সার্কিট ব্রেকার ইত্যাদি লাগাতে হবে।
১১। উল্লেখিত ধাপে ওয়্যারিং শেষ করার পর ওয়্যারিং পরীক্ষা করে কাজ সমাপ্ত করতে হবে।

চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি - ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং - চ্যানেল ওয়্যারিং

চ্যানেল ওয়্যারিং-এ ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় টুলস,

চ্যানেল ওয়্যারিং-এ সচরাচর ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় টুলসসমূহের তালিকা নিচে দেওয়া হলো
১. বিভিন্ন সাইজের ফ্লাট স্ক্রু ডাইভার।
২. ইলেকট্রিক পাওয়ার ড্রিল মেশিন।
৩. বলপিন হ্যামার।
৪। পোকার
৫. হ্যাক 'স'
৬. কম্বিনেশন প্লায়ার্স

চ্যানেল ওয়্যারিং-এর প্রয়োজনীয় মালামালের তালিকা

 ওয়্যারিং-এর স্থান, ওয়্যারিং এরিয়া, লোডের পরিমাণ, গ্রাহকের চাহিদা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে কম বেশি হয়ে থাকে। সাধারণ আবাসিক গৃহের একটি কক্ষে দুটি সুইচ দ্বারা আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রিত দুটি বাতি, একটি সিলিং ফ্যান ও একটি সকেট আডটলেট ওয়্যারিং করতে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর একটি তালিকা নিচে দেয়া হলো।


অন্য পোষ্ট : ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার

মালামালের নাম

১/ টাম্বলার/পিয়ানো সুইচ, (২৫০ ভোল্ট, ৫ অ্যাম্পিয়ার)
২/ টু-পিন সকেট, (২৫০ ভোল্ট, ৫ অ্যাম্পিয়ার)
৩/ পিতলের ব্রাকেট ও ব্রাকেট ল্যাম্প হোল্ডার, (২৫০ ভোল্ট, ৫ অ্যাম্পিয়ার পিতলের)
৪/ সিলিং রোজ, (২৫০ ভোল্ট, ৫ অ্যাম্পিয়ার)
৫/ সিলিং ফ্যান, ১৪০ সেমি. সুইচ রেগুলেটরসহ
৬/ চ্যানেল, ১৩ মি.মি.
৭/ চ্যানেল, ১৮ মি.মি.
৮/ চ্যানেল, ২৫ মি.মি.
৯/ চ্যানেল, ৩৮ মি.মি.
১০/ চ্যানেল, ৫০ মি.মি.
৭/ ইলেকট্রিশিয়ান চাকু ।
৮/ সফট হ্যামার
৯/ পরিমাপক ফিতা।
১০/ দাগ টানার সুতা
১১/ সুইচ বোর্ড (২০ সে.মি.×১৫ সে.মি)
১২/ জয়েন্ট বক্স (৮০ মি.মি. X৮০সে.মি)
১৩/  রাওয়াল প্লাগ ৬×২৫ সেমি. (৮ নং)
১৪/ রাওয়াল পাগ ৮×২৫ মি.মি. (১০ নং)
১৫/ উড ক্রু ২৫ মি.মি.
১৬/ উড ফ্লু ৩৭.৫ মি.মি.
১৭/ সিঙ্গেল কোর পিভিসি তার ১.৫ মি.মি.
১৮/ ইনসুলেটং টেপ ১২ মি.মি.

চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি - ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং - চ্যানেল ওয়্যারিং

চ্যানেলের সাইজ নির্বাচন:

পিভিসি এর তৈরি ১৩ মি.মি. পুরু নির্দিষ্টভাবে খাঁজ কাটা লম্বা পাতকে চ্যানেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চ্যানেলের সাইজ নির্ভর করে তারের সংখ্যার উপর। চ্যানেলের সাইজ এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যেন যতগুলো তার চ্যানেলের মধ্যদিয়ে টানতে হবে, ততগুলো তার স্থাপন করলে যেন অতিরিক্ত জায়গা খালি না থাকে। সাধারণভাবে বাজারে ১৩ মি.মি., ১৮ মি.মি., ৩১ মি.মি., ৩৮ মি.মি., ৫০ মি.মি., ৬৩ মি.মি. চওড়া চ্যানেল পাওয়া যায়। প্রতিটি চ্যানেলই ৩ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। ওয়্যারিং-এ প্রয়োজনীয় সংখ্যক তার স্থাপন করার জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত পরিমাপের চ্যানেল ব্যবহার করা হয়

সুইচ বোর্ডের সাইজ নির্বাচন সুইচ বোর্ডের সাইজ বলতে এর ক্ষেত্রফলকে বোঝায়, যা বোর্ডে কয়টি
সুইচ, সকেট, ফিউজ লাগানো যাবে। সুইচ বোর্ডে ব্যবহৃত আউটলেটের সংখ্যার ভিত্তিতে সুইচ বোর্ডের সাইজ নির্বাচন করা হয়। সুইচ বোর্ড সাধারণত শক্ত প্লাস্টিক বা পিভিসি দিয়ে তৈরি। সুইচ, সকেট, ফ্যান রেগুলেটর ইত্যাদি স্থাপন করার জন্য সুইচ বোর্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সুইচ বোর্ডে সুইচ, সকেট, ফিউজ, ফ্যান রেগুলেটর ইত্যাদি বসানোর জন্য খাঁজ কাটা থাকে। খাঁজ কাটা ছাড়াও বিভিন্ন মাপের বোর্ড পাওয়া যায়।
প্রয়োজনীয় সংখ্যক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপন করার জন্য নিম্নলিখিত পরিমাপের সুইচ বোর্ড বাজারে পাওয়া যায়

৭৫মি.মি. × ৭৫ মি.মি. (৩"x৩"),
১৫০ মি.মি. x ২০০ মি.মি. (৬"X৮"),
২০০মি.মি.×২৫০ মি.মি. (৮"X১০"),
১০০মি.মি. X১০০ মি.মি. (8"X8"),
১০০ মি.মি.×১৫০ মি.মি. (৩"×৬"),
২০০মি.মি.×৩০০ মি.মি. (৮"x১২"),
১২৫ মি.মি. ×২০০ মি.মি. (৫"X৮"),

জাংশন বক্সের সাইজ :

জাংশন বক্সের সাইজ বলতে এর ক্ষেত্রফলকে বোঝায়, যা এর ভেতরে তারের সংযোগ সহজে করা যাবে এরূপ স্থান। জাংশন বক্স সাধারণত শক্ত প্লাস্টিক বা পিভিসি-এর তৈরি। সাধারণত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আগত সার্কিটের ভারসমূহকে জাংশন বক্সের ভিতরে সংযোগ দেয়া হয়। তারের জয়েন্ট, ওয়্যারিং-এর পথ পরিবর্তনে প্লাস্টিকের জাংশন বক্স ব্যবহার করা হয়। এটি জয়েন্ট বক্স হিসেবেও পরিচিত। তাছাড়া সিলিং রোজ, ব্রাকেট ইত্যাদি ফিটিংসও জয়েন্ট বক্সে বসানো হয়। আকারের দিক থেকে জাংশন বক্স সুইচ বোর্ডের মতই তবে, সুইচ বোর্ডের মতো এতে খাঁজ কাটা থাকে না।

চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি - ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং - চ্যানেল ওয়্যারিং

জু-এর সাইজ নির্বাচন :

চ্যানেলের প্রত্যেক বিস্তৃতি, দৈর্ঘ্য ও পুরুত্ব এবং সুইচ বোর্ড ও অন্যান্য সরঞ্জামের সংখ্যা ও পরিমাপ অনুযায়ী উড ক্রুর সংখ্যা ও সাইজ নির্ধরণ করতে হবে।

১। চ্যানেল, সুইজ বোর্ড ও অন্যান্য পিভিসি যে সমস্ত সরঞ্জামের পুরুত্ব ১৩ মি.মি. এর বেশি নয়, সে সমস্ত সরঞ্জাম আটকাতে ৩৭.৫ মি.মি. উড ক্রু ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি বড় বোর্ডের জন্য চারটি, ছোট বোর্ডের জন্য দুটি করে এবং চ্যানেল লাগানোর জন্য দু-ক্রুর মধ্যবর্ত দূরত্ব ৩০ থেকে ৫০ মি. ধরে ঝুর প্রয়োজনীয় সংখ্যা বের করতে হয়
২। সুইচ, সকেট ফ্যান রেগুলেটর, সিলিং রোজ ইত্যাদি সরঞ্জাম আটকাতে ২৫.৫ মি.মি. ক্রু ব্যবহার করা যায়।
সাধারণত প্রতিটি সরঞ্জামের জন্য দুটি ক্রু ধরে প্রয়োজনীয় সংখ্যা হিসাব করা হয়। হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট প্রয়োজনীয় ক্রুর সংখ্যা থেকে আরো ২০% ক্রু বেশি নেয়া উচিত।

রাওয়াল প্লাগ-এর সংখ্যা হিসাব করা যেভাবে রাওয়াল প্লাগ-এর হিসাব করা হয় তা হলো
১. চ্যানেল স্থাপনের ৬০ থেকে ৭০ সে.মি. দূরে রাওয়াল প্লাগ বসানো হয়।
২. প্রতিটি লোডের পয়েন্টে ২টি রাওয়াল প্লাগ ধরা হয়।
৩. সুইচ বোর্ডের জন্য ২ থেকে ৪ টি রাওয়াল প্লাগ হিসাব করা হয় এবং জাংশন বক্সের জন্য ২টি রাওয়াল
প্লাগ ধরা হয়।
৪. হিসাব অনুসারে সর্বমোট প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাওয়াল প্লাগের সংখ্যার সাথে আরো ২০% যোগ করে মোট রাওয়াল প্লাগের সংখ্যা হিসাব করতে হয়।


অন্য পোষ্ট : সার্কিট ব্রেকার - সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে - বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং কাকে বলে

ওয়্যারিং কাজে ব্যবহৃত সার্কিট

ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটে ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্ন বা প্রতীকসমূহ :
সার্কিট চিত্রে ব্যবহৃত প্রতীকসমূহের তালিকা :
প্রতীক নাম
১/ সিঙ্গেল সকেট আউটলেট
২/ ব্যাটারি
৩/ ওভার কারেন্ট বিে
৪/ সার্কিট ব্রেকার
৫/ ডবল সকেট আউটলেট
৬/ ফিউজ
৭/ জয়েন্ট
৮/ ওপেন পুশ সুইচ
৯/ জয়েন্ট বক্স ট্রাংকিং ওয়্যারিং
১০/ রেজিস্ট্যান্স
১১/ ইন্ডাকটর
১২/ সিলিং ফ্যান
১৩/ সিলিং রোজ
১৪/ এগজস্ট ফ্যান
১৫/ ব্রাকেট ফ্যান
১৬/ পরিবর্তনশীল ইন্ডাকটর
১৭/ ওভার লোড
১৮/ মেইন কন্টোল
১৯/ বৈদ্যুতিক মোটর
২০/ সুইচসহ পাইলট ল্যাম্প
২১/  ওয়ান-ওয়ে টু-পোল সুইচ
২২/ হিটার
২৩/ ট্রান্সফরমার
২৪/ টু-ওয়ে সিঙ্গেল পোল সুইচ
২৫/ ফ্লোরেসেন্ট বাতি
২৬/ কিলোওয়াট আওয়ার মিটার
২৭/ বাতি
২৮/ ডিমার সুইচ
২৯/ ক্লোজ পুশ সুইচ
৩০/ থ্রি-পোল সুইচ ইন্টারমেডিয়েট সুইচ
৩১/ আর্থলিকেজ রিলে
৩২/ ম্যাগনেটিক কন্টাক্টর
৩৩/ ডিস্ট্রিবিউশন ফিউজ বোর্ড (সুইচসহ) |
৩৪/ পাওয়ার
৩৫/ রিলে
৩৬/ প্লাগ এন্ড সকেট
৩৭/ ডিটিবিউশন ফিউজ
৩৮/ বোর্ড(সুইচ ছাড়া) পাওয়ার
৩৯/ আর্থ
৪০/ ওয়ান-ওয়ে সিঙ্গেল পোল সুইচ কন্তুইট ওয়্যারিং
৪১/ ইন্ডিকেটর বাতি
৪২/ ফ্যান রেগুলেটর
৪৩/ ফায়ার এলার্স ইন্ডিকেটর
৪৪/ পাওয়ার সুইচ
৪৫/ কুকার কন্ট্রোল ইউনিট
৪৬/ মেইন সুইচ (লাইটিং)
৪৭/ মেইন সুইচ(পাওয়ার)
৪৮/ইলেকট্রিক কলিং বেল
৪৯/ ইলেকট্রিক মিটার
৫০/ থ্রি-ফেজ ইলেকট্রিক মোটর
৫১/ ৩-পিন ৫ অ্যাম্পিয়ার সকেট আউটলেট
৫২/ ৩-পিন ৫ অ্যাম্পিয়ার সকেট আউটলেট (সুইচসহ)
৫৩/ ২-পিন ১৫ অ্যাম্পিয়ার সকেট আউটলেট
৫৪/ ৩-পিন ১৫ অ্যাম্পিয়ার সকেট আউটলেট
৫৫/ ২-পিন ১৫ অ্যাম্পিয়ার সকেট আউটলেট (সুইচসহ)
৫৬/ ৩-পিন ১৫ অ্যাম্পিয়ার সফেট আউটলেট (সুইচসহ)
৫৭/ হাউজ কানেকশন বক্স
৫৮/ রেফ্রিজারেটর আউটলেট
৫৯/ বেল পুশ

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url