প্রাথমিক চিকিৎসা - বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা - প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
প্রাথমিক চিকিৎসা - বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা - প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধি
বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ ইলেকট্রিসিটি রুল :
ইলেকট্রিসিটি রুলস্ অনুযায়ী ওয়ার্কশপ, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি, কলকারখানায় ইত্যাদি ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক কাজে যে সমস্ত বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধিসমূহ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো১. সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি
২. বিভিন্ন ভোল্টেজের সার্কিট চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থা থাকবে।
৩. সিসটেম রক্ষাকারী সরঞ্জামসমূহ বসানো থাকবে।
৪. বৈদ্যুতিক আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঠিক চিকিৎসা করার নির্দেশনা থাকবে।
৫. দুর্ঘটনাসমূহের বিবরণজ্ঞাপন দেয়া থাকবে ।
৬. গ্রাহকের বৈদ্যুতিক স্থাপনা পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা থাকবে ।
৭. ত্রুটি সম্পর্কে পরিদর্শকের নিকট আবেদনের নিয়ম থাকবে
৮. গ্রাহকের সরবরাহ করা ঘোষিত ভোল্টেজ উল্লেখ থাকবে।
৯. মিটার সিল করা থাকবে।
১০. ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করতে হবে।
১১. প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক ।
১২. সার্ভিস লাইন নিয়ম মোতাবেক স্থাপন করা প্রয়োজন
১৩. বৈদ্যুতিক ইনস্টলেশন সঠিকভাবে আর্থিং করা আবশ্যক ।
১৪. প্রয়োজনীয় স্থানে সঠিকমানের সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজ লাগানো থাকবে।
১৫. পাওয়ার সার্কিট যথাযথভাবে গুণগত মানের সরঞ্জাম লাগানো থাকবে।
১৬. সাব-সার্কিট নিয়ম মোতাবেক, অর্থাৎ প্রতি সাব-সার্কিট ৮০০ ওয়াট থেকে ১০০০ ওয়াট বা ৮ থেকে ১০ টি পয়েন্ট সংযোগ করা প্রয়োজন।
১৭. তারের সাইজ এমন হতে হবে যেন তা নিরাপদে লোড কারেন্ট বহন করতে পারে।
১৮. সুইচ বোর্ডের সামনে কমপক্ষে ১ মিটার পরিমাণ খালি জায়গা রাখতে হবে এবং সুইচ বোর্ড ঘরের মেঝে
হতে ১.২৫ মিটার উঁচুতে স্থাপন করতে হবে।
১৯. সিলিং ফ্যান মেঝে থেকে ২.৭০ মিটার উপরে ঝুলাতে হবে, যা নিরাপদ হবে।
২০. পাওয়ার সার্কিট ৩০০০ ওয়াট বা দুই এর বেশি পয়েন্ট হবে না,
২১. আর্থ কন্টিনিউয়িটি তারের সাথে কোনো ফিউজ বা সুইচ লাগানো যাবে না।
২২. প্রতিটি লোড আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
২৩. ফিউজ ও সুইচ ফেজ তারে লাগাতে হবে ইত্যাদি।
প্রাথমিক চিকিৎসা - বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা - প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
অন্য পোষ্ট : কারেন্ট | what is voltage | Resistance | Electrical circuit | Series circuit
ইলেকট্রিশিয়ানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বিধি :
ইলেকট্রিশিয়ানগণ মূলত বৈদ্যুতিক স্থাপনার কাজ
হাতে কলমে করে থাকে। বৈদ্যুতিক এ কাজসমূহে অনেক ক্ষেত্রেই জীবনের ঝুঁকি থাকে। নিরাপদভাবে কাজ করতে যে নিরাপত্তা বিধিগুলো ইলেকট্রিশিয়ানদের জন্য খুব প্রয়োজন, সেগুলো নিম্নরূপ।১. বৈদ্যুতিক কাজ সর্বদা সাবধানে করতে হবে।
২. বৈদ্যুতিক লাইন বা যন্ত্রপাতিতে কাজ করার আগে সেগুলোকে সঠিকভাবে আর্থ করে বা অন্যভাবে তড়িৎ
মুক্ত করে নিতে হবে। কাছাকাছি অন্য কোনো বিপজ্জনক সাইড লাইন থাকলে তাকেও তড়িৎ মুক্ত করে নিতে হবে। নজর রাখতে হবে, সেগুলো যেন কাজের সময় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় অসুবিধা না ঘটায় ।
৩. কোনো বাড়িতে বা অফিস, আদালতে ইলেকট্রিক্যাল কাজ করার সময় ঐ বাড়িতে ওয়্যারিংয়ের তার বা ক্যাবলে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্সের মান পরিমাণ করে দেখতে হবে, যাতে ১ মেগাওহমের চেয়ে কম না হয়।
৪. বৈদ্যুতিক লোডসমূহ সুইচের মাধ্যমে সংযোগ করতে হবে।
৫. কোনো লাইন লাইনে কাজ করার পূর্বে এর সরবরাহ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিতে হবে এবং বিচ্ছিন্নকারী ডিভাইস দেখে নিশ্চিত হতে হবে এবং কাজ করা পর্যন্ত তা নিশ্চিত থাকবে।
৬. কোনো বিচ্ছিন্ন বা নবনির্মিত লাইন বিদ্যুৎ সংযোগ করার পূর্বে অবশ্যই লাইনে কেউ কাজ করছে না এই মর্মে নিশ্চিত হতে হবে।
৭. বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করার সময় রাবার গ্লাভস রাবারের জুতা, অ্যাপ্রোন ও সেফটি হেলমেট ইত্যাদি
ব্যবহার করতে হবে, যা নিচের চিত্রে দেখানো হয়েছে।
৮. ভূমি হতে উপরে কোনো স্থানে কিংবা পোলে বা টাওয়ারে বৈদ্যুতিক কাজ করতে সেফটি বেল্ট পড়তে হবে।
৯. কোনো সার্কিটের ফিউজ পরিবর্তনের সময় অবশ্যই সার্কিটের সমস্ত লোড অফ করে নিতে হবে।
১০. বৈদ্যুতিক কাজের জন্য যে সমস্ত সরঞ্জাম (ইলেকট্রিক হ্যান্ড ড্রিল, ইলেকট্রিক হ্যান্ড-গ্রাইভার ইত্যাদি) ব্যবহারের পূর্বে এর আর্থিং সংযোগ এবং সকেটে আর্থিং ব্যবস্থা ঠিক আছে এই মর্মে নিশ্চিত হতে হবে।
১১. যে অংশে বৈদ্যুতিক কাজ করতে হবে সে অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অফ করে নিতে হবে। সুইচ অফ করা সম্ভব নয় এরূপ ক্ষেত্রে শুকনা কাঠ বা রাবারের উপর দাঁড়িয়ে অর্থাৎ বডি আর্থ মুক্ত রেখে কাজ করতে হবে।
১২. যে সমস্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কাজ করা হবে সেগুলো বা ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও টুলসসমূহের মান উন্নত হওয়া বাঞ্ছনীয় । ভালো যন্ত্রপাতি দিয়ে ভালো কাজ হবে এবং নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা - বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা - প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
লাইভ লাইন (চালু লাইন) মেইনটেন্যান্সের জন্য নিরাপত্তা কর্মপদ্ধতি :
যে পরিবাহীতে বিদ্যুৎ বিদ্যমান থাকে এবং আর্থের সঙ্গে তড়িতের বিভব বৈষম্য থাকে, তাকে লাইভ লাইন বলে। অনেক ক্ষেত্রে লাইন চালু অবস্থায় লাইনে কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থার অভিযোগ শাখা প্রায়ই লাইভ লাইনে কাজ করে বা করতে হয় । কারণ বৈদ্যুতিক মেরামতের লাইন বন্ধ করে কাজ করতে হলে তা সিস্টেম কে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সাপ্লাই দিতে পারবে না। সেজন্য লাইভ লাইনে কাজ করার সময় একজন ইলেকট্রিশিয়ানকে নিম্নলিখিত বিষয়ে সতর্কর্তা অবলম্বন করতে হবে।১. কাজ করতে সর্বদা সাবধানে থাকতে হবে।
২. লাইন লাইনে কাজ করার সময় একজন ইলেকট্রিশিয়ানকে বিদ্যুতের আঘাত হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই সেফটি হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।
৩. বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও টুলসসমূহের ইনসুলেশন- এর মান উন্নত হতে হবে। ৪. বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করার সময় রবার গ্লাভস, রবারের জুতা, অ্যাপ্রোন ও শক্ত হেলমেট ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
৫. ভূমি হতে উপরে কোনো স্থানে কিংবা পোলে বা টাওয়ারে বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় অবশ্যই সেফটি বেল্ট ব্যবহার করতে হবে।
৬. লাইভ লাইনে কাজ করতে সংযোগ করার সময় অধিক সাবধান হতে হবে যেন, স্পার্কিং এ একাধিক সমস্যা না হয়।
অন্য পোষ্ট : Electron theory | Atomic structure | Physiological Effect
১. দুর্ঘটনার কারণ সংক্ষিপ্তভাবে থাকবে।
২. কীভাবে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
৩. ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।
৪. ক্ষয়ক্ষতি কম হত যেভাবে তার বিবরণ ।
৫. ভবিষ্যৎ করণীয় যাতে অনুরূপ দুর্ঘটনা না ঘটে।
১. বৈদুতিক শক বা অন্য কোনো কারনে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সাথে সাথে কৃত্রিম উপায়ে তার শ্বাস প্রশ্বাস চালু করার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন। প্রথমিক অবস্থায় ডাক্তারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোনো প্রথমিক চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করলে আহত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।
২. বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় উপর থেকে বা অন্য কোনো কারণে কোনো ব্যক্তির হাত পা ভাঙ্গলে বা আঘাত পেলে
কিংবা গিট সরে গেলে সাথে সাথে তার হাড়গুলো বা গিট যথাস্থানে স্থাপন করতে হবে এবং হাসপাতালে নিতে হবে।
৩. বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির হাত পা কেটে গেলে আগে রক্ত বন্ধ করতে ব্যান্ডেজ করতে হবে এবং
ডাক্তার ডাকতে হবে।
৪. বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলে তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক চিকিৎসাই যথেষ্ট।
৫. বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় কেউ পানিতে পড়লে তার পেট হতে পানি বের করে আনা ও জ্ঞান ফিরিয়ে আনার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার বিকল্প নেই। উপরে উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রেই আহত ব্যক্তিকে সাহস দেয়া, তার শরীর গরম রাখা ইত্যাদি প্রাথমিক চিকিৎসার অন্তর্ভূক্ত। অতএব, আহত ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
১. মেডিকেটেড কটন,
২. বার্ণল বা মলম,
৩. ব্যান্ডেজ,
৪. স্যাভলন/ ডেটল,
৫. কাঁচি, সুতা, তুলা,
৬. টিংচার আয়োডিন,
৭. টিংচার বেনজিন,
৮. লিউকোপাস্টার,
৯. ধারালো চাকু,
১০. ব্লেড,
১১. মেডিকেটেড গজ,
১২. ফরসেপ,
১৩. হোল্ডারসহ নিডল
১৪. ব্যথা নিরাময়ের কিছু ঔষধ,
১. আহত ব্যক্তিকে সোজাভাবে চিৎ করে শুইয়ে দিতে হবে। যথাশীঘ্ৰ তৃতীয় কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে ডাক্তারকে
সংবাদ দেয়া কিংবা আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. এখন লক্ষ্য করতে হবে আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক আছে কিনা এবং কোথাও কোনো কাটা, পোড়া কিংবা ক্ষত আছে কিনা ।
৩. যদি আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে কৃত্রিমভাবে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করতে হবে ।
৪. আহত ব্যক্তির শরীরের বন্ধন খুলে দিতে হবে, যেমন বেল্ট, টাইট জামা, প্যান্টের বোতাম ইত্যাদি ।
৫. আহত ব্যক্তিকে যথাসম্ভব মুক্ত বাতাসে শুইয়ে দিতে হবে।
৬. এ পদ্ধতিতে বিদ্যুতাঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিচের চিত্রের ন্যায় উপুড় করে শুইয়ে তার মাথা একদিকে কাত করে দিতে হবে। মাথায় কোনো বালিশ দেয়া যাবে না। অতঃপর আহত ব্যক্তির পাশে হাঁটু গেড়ে বসে তার দুই দিকের পাজরের নিচের অংশ দু হাতের তালু দ্বারা চেপে ধরে নিজের ভার ক্রমশ তার দেহের উপর প্রয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ ঝুঁকে পড়ে ক্রমশঃ চাপ দিতে হবে। তারপর আবার চাপ ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসতে হবে। এভাবে মিনিটে ১২ হতে ১৫ বার চাপ প্রয়োগ ও চাপ অপসারণ করতে হবে। যতক্ষণ না তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির হাত পা ম্যাসেজ করতা হবে, যাতে শরীর গরম থাকে এবং রক্ত চলাচাল স্বাভাবিক হয়।
অতঃপর আহত ব্যক্তির বাহু নিচের দিক থেকে আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠাতে হবে, আবার নিচের দিকে ছাড়তে হবে এভাবে সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ছয় বার করতে হবে। উল্লেখিত পদ্ধতি কয়েকবার করে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে প্রতি মিনিটে ৮ থেকে ১০ বার চালাতে হবে। তাছাড়া অন্যভাবেও শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ স্বাভাবিক করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শকপ্রাপ্ত আহত ব্যক্তিকে চিৎ করে শুইয়ে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে আহত ব্যক্তির বাহু দুটিকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে এনে পুনরায় বুকের উপর চাপ দিয়ে দরতে হবে। এতে ফুসফুস হতে বাতাস বের হয়ে আসবে। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস চালু না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতি মিনিটে ১০ থেকে ১২ বার এ প্রক্রিয়া চালাতে হবে। উপরোল্লিখিত দুটি পদ্ধতি ছাড়াও মুখে কৃত্রিম শ্বাস নেওয়ানো যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে প্রথমে আহত ব্যক্তির মুখ এবং গলা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অতঃপর সেবা প্রদানকারীর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। সেবা প্রদানকারীর বাম হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুল আহত ব্যক্তির দাঁতের ভিতরে ঢুকিয়ে রাখতে হবে। আহত ব্যক্তির মাথা পিছন দিকে বাঁকা অবস্থায় রেখে চোয়ালকে উঁচু অবস্থানে নিয়ে আহত ব্যক্তির নাক দুটিকে ডান হাত দিয়ে চেপে ধরতে হবে। যা চিত্র ৩.৩- তে দেখানো হয়েছে।
এবার সেবা প্রদানকারীর দীর্ঘশ্বাস নিতে হবে ও আহত ব্যক্তির মুখ বরাবর নিজের মুখ স্থাপন করে জোরে বাতাস পাম্প করতে হবে। এতে আহত ব্যক্তির বুক প্রসারিত হবে। অতঃপর কয়েক সেকেন্ড পর সেবা প্রদানকালী আবার আহত ব্যক্তির মুখ বরাবর নিজের মুখ স্থাপন করে মুখ তুলে বাতাস বের করে আনতে হবে। এভাবে কয়েক সেকেন্ড পরপর পদ্ধতিটি বারবার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা চালাতে গেলে সেবা প্রদানকারীর ও রোগী উভয়েরই কোনো প্রকার দুরারোগ্য সংক্রামক ব্যাধি থাকা যাবে না ।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত রিপোর্ট :
বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় খুব সাবধান থেকে দুর্ঘটনা এড়ানো খুবই প্রয়োজন; তারপরও কিছু দুর্ঘটনা ঘটবে বা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা পরবর্তী যে লিখিত দলিল বা পত্র দেয়া হয় সেখানে দুর্ঘটনার কারণসহ যাবতীয় তথ্যাদি থাকবে। লিখিত এ দলিলকেই দুর্ঘটনা সংক্রান্ত রিপোর্ট বলে। দুর্ঘটনার পরবর্তী সময়ে একজন ইলেকট্রিশিয়ানের যে কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হলো দুর্ঘটনা সংক্রান্ত রিপোর্ট তৈরি। বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎকর্মী বা অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়গুলো চিন্তা করে রিপোর্ট লিখতে হবে, যাতে করে ইনসুরেন্স কোম্পানি নিয়ম মোতাবেক সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। প্রয়োজন হলে শ্রম আদালত এই রিপোর্ট হতে সঠিক তথ্য লাভে ব্যবস্থা নিতে পারে। অতএব বলা যায়, দুর্ঘটনা সংক্রান্ত রিপোর্টের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। রিপোর্টে যে তথ্যগুলো থাকবে১. দুর্ঘটনার কারণ সংক্ষিপ্তভাবে থাকবে।
২. কীভাবে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
৩. ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।
৪. ক্ষয়ক্ষতি কম হত যেভাবে তার বিবরণ ।
৫. ভবিষ্যৎ করণীয় যাতে অনুরূপ দুর্ঘটনা না ঘটে।
প্রাথমিক চিকিৎসা - বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা - প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
প্রাথমিক চিকিৎসা :
বৈদ্যুতিক কাজ করতে গেলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে ডাক্তারের নিকট পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে যে চিকিৎসা দেয়া হয়, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে । অনেক সময় আহত ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসাই যথেষ্ট। বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মারাত্মক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা না হলে বা সঠিক না হলে পরবর্তী ধাপের চিকিৎসার সময় থাকবে না; অর্থাৎ আহত ব্যক্তির জীবনে শঙ্কা দেখা দিতে পারে। প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেয়া বা ডাক্তার ডাকা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে যে চিকিৎসা দেয়া হয়, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা ডাক্তারের কাজকে ত্বরান্বিত ও সহজ করে।প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা :
যে সমস্ত কারণে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম সেগুলো হলো১. বৈদুতিক শক বা অন্য কোনো কারনে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সাথে সাথে কৃত্রিম উপায়ে তার শ্বাস প্রশ্বাস চালু করার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন। প্রথমিক অবস্থায় ডাক্তারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোনো প্রথমিক চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করলে আহত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।
২. বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় উপর থেকে বা অন্য কোনো কারণে কোনো ব্যক্তির হাত পা ভাঙ্গলে বা আঘাত পেলে
কিংবা গিট সরে গেলে সাথে সাথে তার হাড়গুলো বা গিট যথাস্থানে স্থাপন করতে হবে এবং হাসপাতালে নিতে হবে।
৩. বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির হাত পা কেটে গেলে আগে রক্ত বন্ধ করতে ব্যান্ডেজ করতে হবে এবং
ডাক্তার ডাকতে হবে।
৪. বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলে তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক চিকিৎসাই যথেষ্ট।
৫. বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় কেউ পানিতে পড়লে তার পেট হতে পানি বের করে আনা ও জ্ঞান ফিরিয়ে আনার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার বিকল্প নেই। উপরে উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রেই আহত ব্যক্তিকে সাহস দেয়া, তার শরীর গরম রাখা ইত্যাদি প্রাথমিক চিকিৎসার অন্তর্ভূক্ত। অতএব, আহত ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জামাদির তালিকা :
প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য খুব সাধারণ ধরনের কিছু
সরঞ্জামাদির প্রয়োজন হয়। সেগুলো হলো১. মেডিকেটেড কটন,
২. বার্ণল বা মলম,
৩. ব্যান্ডেজ,
৪. স্যাভলন/ ডেটল,
৫. কাঁচি, সুতা, তুলা,
৬. টিংচার আয়োডিন,
৭. টিংচার বেনজিন,
৮. লিউকোপাস্টার,
৯. ধারালো চাকু,
১০. ব্লেড,
১১. মেডিকেটেড গজ,
১২. ফরসেপ,
১৩. হোল্ডারসহ নিডল
১৪. ব্যথা নিরাময়ের কিছু ঔষধ,
প্রাথমিক চিকিৎসা - বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা - প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
অন্য পোষ্ট : Energy meter | বৈদ্যুতিক পাওয়ার কি | what is electric power
বৈদ্যুতিক শক প্রাপ্ত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি :
বৈদ্যুতিক শকপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিরাপদে শক মুক্ত করে চিকিৎসা করতে হবে। এ সময় আহত ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। কখনও কখনও শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। এ ধরনের রোগীকে সাধারণত তিন রকম পদ্ধতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।১. আহত ব্যক্তিকে সোজাভাবে চিৎ করে শুইয়ে দিতে হবে। যথাশীঘ্ৰ তৃতীয় কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে ডাক্তারকে
সংবাদ দেয়া কিংবা আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. এখন লক্ষ্য করতে হবে আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক আছে কিনা এবং কোথাও কোনো কাটা, পোড়া কিংবা ক্ষত আছে কিনা ।
৩. যদি আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে কৃত্রিমভাবে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করতে হবে ।
৪. আহত ব্যক্তির শরীরের বন্ধন খুলে দিতে হবে, যেমন বেল্ট, টাইট জামা, প্যান্টের বোতাম ইত্যাদি ।
৫. আহত ব্যক্তিকে যথাসম্ভব মুক্ত বাতাসে শুইয়ে দিতে হবে।
৬. এ পদ্ধতিতে বিদ্যুতাঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিচের চিত্রের ন্যায় উপুড় করে শুইয়ে তার মাথা একদিকে কাত করে দিতে হবে। মাথায় কোনো বালিশ দেয়া যাবে না। অতঃপর আহত ব্যক্তির পাশে হাঁটু গেড়ে বসে তার দুই দিকের পাজরের নিচের অংশ দু হাতের তালু দ্বারা চেপে ধরে নিজের ভার ক্রমশ তার দেহের উপর প্রয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ ঝুঁকে পড়ে ক্রমশঃ চাপ দিতে হবে। তারপর আবার চাপ ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসতে হবে। এভাবে মিনিটে ১২ হতে ১৫ বার চাপ প্রয়োগ ও চাপ অপসারণ করতে হবে। যতক্ষণ না তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির হাত পা ম্যাসেজ করতা হবে, যাতে শরীর গরম থাকে এবং রক্ত চলাচাল স্বাভাবিক হয়।
অতঃপর আহত ব্যক্তির বাহু নিচের দিক থেকে আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠাতে হবে, আবার নিচের দিকে ছাড়তে হবে এভাবে সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ছয় বার করতে হবে। উল্লেখিত পদ্ধতি কয়েকবার করে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে প্রতি মিনিটে ৮ থেকে ১০ বার চালাতে হবে। তাছাড়া অন্যভাবেও শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ স্বাভাবিক করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শকপ্রাপ্ত আহত ব্যক্তিকে চিৎ করে শুইয়ে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে আহত ব্যক্তির বাহু দুটিকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে এনে পুনরায় বুকের উপর চাপ দিয়ে দরতে হবে। এতে ফুসফুস হতে বাতাস বের হয়ে আসবে। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস চালু না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতি মিনিটে ১০ থেকে ১২ বার এ প্রক্রিয়া চালাতে হবে। উপরোল্লিখিত দুটি পদ্ধতি ছাড়াও মুখে কৃত্রিম শ্বাস নেওয়ানো যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে প্রথমে আহত ব্যক্তির মুখ এবং গলা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অতঃপর সেবা প্রদানকারীর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। সেবা প্রদানকারীর বাম হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুল আহত ব্যক্তির দাঁতের ভিতরে ঢুকিয়ে রাখতে হবে। আহত ব্যক্তির মাথা পিছন দিকে বাঁকা অবস্থায় রেখে চোয়ালকে উঁচু অবস্থানে নিয়ে আহত ব্যক্তির নাক দুটিকে ডান হাত দিয়ে চেপে ধরতে হবে। যা চিত্র ৩.৩- তে দেখানো হয়েছে।
এবার সেবা প্রদানকারীর দীর্ঘশ্বাস নিতে হবে ও আহত ব্যক্তির মুখ বরাবর নিজের মুখ স্থাপন করে জোরে বাতাস পাম্প করতে হবে। এতে আহত ব্যক্তির বুক প্রসারিত হবে। অতঃপর কয়েক সেকেন্ড পর সেবা প্রদানকালী আবার আহত ব্যক্তির মুখ বরাবর নিজের মুখ স্থাপন করে মুখ তুলে বাতাস বের করে আনতে হবে। এভাবে কয়েক সেকেন্ড পরপর পদ্ধতিটি বারবার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা চালাতে গেলে সেবা প্রদানকারীর ও রোগী উভয়েরই কোনো প্রকার দুরারোগ্য সংক্রামক ব্যাধি থাকা যাবে না ।
