Energy meter | বৈদ্যুতিক পাওয়ার কি | what is electric power

 Energy meter | বৈদ্যুতিক পাওয়ার কি | what is electric power

Energy meter | বৈদ্যুতিক পাওয়ার কি | what is electric power


Energy meter | বৈদ্যুতিক পাওয়ার কি | what is electric power

ইন্ডাকশন টাইপ এনার্জি মিটার

এনার্জি মিটার এনার্জি মিটার এক প্রকার বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্র।
বৈদ্যুতিক এনার্জি সাধারণত ওয়াট-আওয়ার বা কিলোওয়াট-আওয়ার মিটার দিয়ে পরিমাপ করা হয়। এ যন্ত্রের পাঠ থেকে মাসিক বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা হয়। যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন সার্কিটের বৈদ্যুতিক এনার্জি পরিমাপ করা হয় তাকে এনার্জি মিটার বলে । এনার্জি মিটারকে ওয়াট-আওয়ার বা কিলোওয়াট-আওয়ার মিটারও বলা হয়। এ মিটারে বৈদ্যুতিক পাওয়ার এবং কত সময় এই পাওয়ার ব্যয় হয়েছে সে সময়ের গুণফল সরাসরি পাওয়া যায়। বর্তনীতে যতক্ষণ পর্যন্ত পাওয়ার ব্যয় হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ডায়ালের কাঁটাগুলো ঘুরে পাওয়ার খরচ রেকর্ড করে।

এনার্জি মিটারের প্রকারভেদ

এনার্জি মিটার প্রধানত তিন প্রকার। যথা—
১. ইলেকট্রোলাইটিক মিটার
২. মোটর মিটার
৩. ক্লক মিটার ।
এক-ফেজ ও তিন-ফেজ উভয় ধরনের সরবরাহের জন্যই এনার্জি মিটার পাওয়া যায়। এক-ফেজ সরবরাহের জন্য এক-ফেজ এনার্জি মিটার এবং তিন-ফেজ সরবরাহের জন্য তিন-ফেজ এনার্জি মিটার ব্যবহার করা হয়।

এনার্জি মিটারের পাঠ গ্রহণ করার পদ্ধতি যে কোনো সময় এনার্জি মিটারের ডায়াল থেকে সরাসরি পাঠ নেওয়া যায়। এই পাঠ দশমিকের পরে দুই অঙ্ক পর্যন্ত নেওয়া যায়। এনার্জির বিল হিসাব করার সুবিধার্থে দশমিক মান উপেক্ষা করা যায়। বর্তমান পাঠ থেকে পূর্বে সংগ্রহ করা পাঠ বিয়োগ করলে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যয়িত এনার্জির পরিমাণ কিলোওয়াট আওয়ার এককে পাওয়া যায়। এক কিলোওয়াট আওয়ার = এক ইউনিট।


অন্য পোষ্ট : ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার

এনার্জি মিটারের ত্রুটি

দুটি কারণে এনার্জি মিটারের ত্রুটি দেখা দেয়। যেমন ক. ঘর্ষণজনিত ত্রুটি;
খ. মহনজনিত ত্রুটি।
ঘর্ষণজনিত ত্রুটি বা ফ্রিকশন ত্রুটি আবার দুই ধরনের। যেমন
১. মার্কারি ফ্রিকশন
২. বিয়ারিং ফ্রিকশন

ক. ঘর্ষণজনিত ত্রুটি
কারণ :
চলনশীল অংশসমূহ এর স্পিন্ডল এবং বিয়ারিং ঘর্ষণের ফলে এ ত্রুটির সৃষ্টি হয়।
ক্ষতি :
এর ফলে আর্মেচারের গতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিকার :
একটি অতিরিক্ত এবং ক্ষুদ্রমানের চালিকা টর্ক দেওয়া হয়। এই টর্ক মোটরের লোডের উপর
নির্ভর করে।
খ. মহনজনিত ত্রুটি
কারণ :
স্থায়ী চুম্বকের ক্ষেত্রের মধ্যে চলমান একটি দাতব থালার মধ্যে আবেশিত এসি কারেন্ট দ্বারা এর সৃষ্টি হয়। ক্ষতি :
বৃদ্ধি (অতিরিক্ত) তাপমাত্রার ফলে ম্যাগনেটের শক্তি হারাতে থাকে ।
প্রতিকার :
তৈরির সময় ভালোভাবে ডিজাইন করতে হয়।

ডিজিটাল এনার্জি মিটার
ডিজিটাল এনার্জি মিটার এক ধরনের আধুনিক বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্র যা দ্বারা সরাসরি বৈদ্যুতিক এনার্জি পরিমাপ করা যায়। এ মিটারে এলসিডি (LCD) ডিসপ্লের মাধ্যমে রিডিং প্রদর্শিত হয়। তাই এ মিটার দ্বারা এনার্জি পরিমাপ করা খুবই সহজ। গ্রাম অঞ্চল ছাড়া শহরের বিভিন্ন অফিস-আদালত, কলকারখানা ও বাসা বাড়িতে ডিজিটাল এনার্জি মিটারের ব্যবহার শুরু হয়েছে।

সার্কিটে ডিজিটাল এনার্জি মিটার সংযোগ করার পদ্ধতি
এই মিটারের সাহায্যে সরাসরি ব্যয়িত এনার্জির রিডিং পাওয়া যায়। এলসিডি ডিসপ্লের মাধ্যমে এই রিডিং প্রদর্শিত হয়। এ মিটারের সবচেয়ে ডান দিকের ঘরটি Fraction বা ভগ্নাংশ হিসাবে কাজ করে। এই

ঘরটির চারদিকে লাল বা কাল রং দিয়ে নকসা করা থাকে যাতে কোনো লোক দেখেই একে ব্যতিক্রম
হিসাবে ধরতে পারে এবং সহজে বুঝতে পারে।
ডিজিটাল এনার্জি মিটার সিঙ্গেল ফেজ ও থ্রিফেজ এই দুই ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণ এনার্জি মিটারের মতো সিঙ্গেল ফেজ এনার্জি মিটারের ৪টি টার্মিনাল থাকে এবং থ্রি ফেজ এনার্জি মিটারের ৬টি টার্মিনাল থাকে। তাই ডিজিটাল এনার্জি মিটারের সংযোগ সাধারণ এনার্জি মিটারের মতোই।


Energy meter | বৈদ্যুতিক পাওয়ার কি | what is electric power

বৈদ্যুতিক পাওয়ার

যে হারে কোনো বৈদ্যুতিক সার্কিটে কাজ করা হয় অথবা প্রতি সেকেন্ডে কোনো বৈদ্যুতিক সার্কিটে যে এনার্জি সরবরাহ করা হয় তাকে বৈদ্যুতিক ক্ষমতা বা পাওয়ার বলে। একে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যদি কোনো বৈদ্যুতিক বর্তনীতে Q একক চার্জ V ভোল্ট বৈদ্যুতিক চাপে। সেকেন্ড সময় ধরে প্রবাহিত হয় তখন কাজের পরিমাণ দাঁড়ায়- W = VQ,
প্রতি সেকেন্ডে কাজের পরিমাণ P = W VQ = t t আর্গ/সেকেন্ড । এখানে প্রতি সেকেন্ডে চার্জের পরিমাণকে কারেন্ট ধরা হয়। সুতরাং বৈদ্যুতিক পাওয়ার P= VI আর্গ/সেকেন্ড। যদি V এবং I কে ব্যবহারিক এককে প্রকাশ করা হয়, তবে বৈদ্যুতিক পাওয়ার P = V x 108 × 1 × 10 = VIx 107 আর্গ/সেকেন্ড। = VI জুল/সেকেন্ড । {107 আৰ্গ = 1 জুল} সুতরাং বৈদ্যুতিক পাওয়ার
= বৈদ্যুতিক চাপের পার্থক্য × কারেন্ট।
= VI ওয়াট। {1 জুল/সেকেন্ড = 1 ওয়াট)
২২.২। বৈদ্যুতিক পাওয়ারের একক ও প্রতীক পাওয়ারের একক : SI পদ্ধতিতে পাওয়ারের একক হলো ওয়াট। পাওয়ারের বড় একক কিলোওয়াট ও মেগাওয়াট । স্কটিশ বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। পাওয়ারের প্রতীক হচ্ছে P । এক ভোল্ট বৈদ্যুতিক চাপে যদি কোনো বর্তনীতে এক সেকেন্ড সময়ে এক কুলম্ব চার্জ প্রবাহিত হয় তবে পাওয়ারের পরিমাণ হবে এক ওয়াট। অন্য কথায়, কোনো বৈদ্যুতিক বর্তনীতে এক ভোল্ট বৈদ্যুতিক চাপের পার্থক্যে এক অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হতে যে পাওয়ার অপচয় হয়, তাকে এক ওয়াট বলে। ওয়াটকে
W দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 1 কিলোওয়াট = 1000 ওয়াট
1 মেগাওয়াট = 106 ওয়াট
১ কিলোওয়াট আওয়ারকে বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট সংক্ষেপে BOT ইউনিট বলে। 1 BOT = ১ কিলোওয়াট-আওয়ার।

বৈদ্যুতিক পাওয়ারের সাথে কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্সের সম্পর্ক বৈদ্যুতিক পাওয়ার হচ্ছে কোনো সার্কিটের ভোল্টেজ ও কারেন্টের গুণফল। যদি কোনো সার্কিটের কারেন্ট I হয় এবং সরবরাহ ভোল্টেজ V হয় তবে সেই সার্কিটের পাওয়ার P=VI ওয়াট। আবার, বৈদ্যুতিক পাওয়ার,
আপাত শক্তি (পাওয়ার) ও প্রকৃত শক্তি (পাওয়ার)
আপাত শক্তি বা অ্যাপারেন্ট পাওয়ার কোনো ডিসি সার্কিটের বৈদ্যুতিক চাপকে কারেন্ট দিয়ে গুণ করলে ঐ সার্কিটের বিদ্যুৎ শক্তির পরিমাণ (ওয়াট) কত তা জানা যায়। কিন্তু এসি সার্কিটের বৈদ্যুতিক চাপকে কারেন্ট দিয়ে গুণ করলে যা পাওয়া যায় তাকে সার্কিটের আপাত শক্তি বা অ্যাপারেন্ট পাওয়ার বলে। এর একক ভোল্ট অ্যাম্পিয়ার (VA), কিলোভোল্ট অ্যাম্পিয়ার (KVA).

Energy meter | বৈদ্যুতিক পাওয়ার কি | what is electric power


অন্য পোষ্ট : electrician hand tools - electrical hand tools - mechanical electrical tools

প্রকৃত পাওয়ার :

এসি সার্কিটের প্রকৃত পাওয়ার বা অ্যাকটিভ পাওয়ার বলতে V, I, ও Cose এর গুণফল অর্থাৎ VI Cose কে বোঝায়। এখানে, V ফেজ ভোল্টেজ, I ফেজ কারেন্ট, Cost পাওয়ার ফ্যাক্টর এবং V ও I এর মধ্যবর্তী কোণ অর্থাৎ সার্কিটের ফেজ অ্যাঙ্গেলকে ধরা হয়। কোনো সার্কিটে প্রকৃতপক্ষে যে পাওয়ার অপচয় হয় তাই প্রকৃত পাওয়ার পাওয়ারের প্রতীক P এবং একক ওয়াট বা কিলোওয়াট বা মেগাওয়াট ইত্যাদি।

যান্ত্রিক পাওয়ার ও বৈদ্যুতিক পাওয়ারের মধ্যে সম্পর্ক যান্ত্রিক ক্ষমতাকে প্রকাশ করা হয় অশ্বক্ষমতা বা হর্স পাওয়ার (HP) দ্বারা এবং বৈদ্যুতিক ক্ষমতাকে প্রকাশ করা হয় ওয়াট বা কিলোওয়াট দ্বারা । অশ্বক্ষমতা (HP)ঃ প্রতি সেকেন্ডে 550 ফুট-পাউন্ড কাজ করার ক্ষমতাকে এক অশ্বক্ষমতা বলে। অন্যভাবে বলা যায়, 550 পাউন্ড ওজন বল প্রয়োগে বলের ক্রিয়া রেখা বরাবর বস্তুর প্রতি সেকেন্ডের সরণ 1 ফুট হলে যে কাজ সম্পন্ন হয় তাকে এক অশ্বক্ষমতা বলে। এফপিএস পদ্ধতিতে যান্ত্রিক পাওয়ারের একক হচ্ছে হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা। ১ অশ্বক্ষমতা = ৭৪৬ ওয়াট এবং ১ অশ্বক্ষমতা = ৫৫০ ফুট পাউন্ড / সেকেন্ড।

বৈদ্যুতিক পাওয়ার সংক্রান্ত গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান সমস্যা-১। 110 ভোল্টের একটি ডায়নামো 55 ওহম রেজিস্ট্যান্সের একটি বাতির ভিতর দিয়ে 2 অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হয়। বাতিতে ব্যয়িত ক্ষমতা নির্ণয় কর।

এখানে, দেওয়া আছে, ভোল্টেজ, V = 110 ভোল্ট রেজিস্ট্যান্স, R = 55 ওহম
কারেন্ট, 1 = 2 অ্যাম্পিয়ার
পাওয়ার P = ?
আমরা জানি, পাওয়ার P=VI
= 110 x 2 ওয়াট = 220 ওয়াট (উত্তর)।
সমস্যা-২। একটি বৈদ্যুতিক বাতিকে 40 ওয়াট 200 ভোল্ট এইভাবে চিহ্নিত আছে । বাতিটির রেজিস্ট্যান্স এবং এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্টের মান কত? সমাধান এখানে দেওয়া আছে, পাওয়ার P= 40 ওয়াট কারেন্ট, I = ?

ভোল্টেজ V = 200 ভোল্ট রেজিস্ট্যান্স R = ?
আমরা জানি, P= R
বা, R = P
বা, R= 2002 200x200 40 =1000
40 ... R = 10002
আবার, P = VI
বা, VI = P
বা, I = P V
বা, I= 40 200
বা, I = 0.2 A উত্তর : 1000 ওহম; 0.2 অ্যাম্পিয়ার।
সমস্যা-৩। একটি হিটারের হিটিং এলিমেন্টের রেজিস্ট্যান্স 30 ওহম। হিটারটিকে 240 ভোল্ট সরবরাহ লাইনে সংযোগ করলে কত কারেন্ট গ্রহণ করবে এবং কত পাওয়ার ব্যয় হবে? সমাধান : এখানে দেওয়া আছে, রেজিস্ট্যান্স R = 30 ওহম
ভোল্টেজ V = 240 ভোল্টেজ
কারেন্ট I = ?
পাওয়ার P = ?
V 240
আমরা জানি, 1 = = R 30 - 8 অ্যাম্পিয়ার
পাওয়ার P=Vx I = 240 x 8 ওয়াট = 1920 ওয়াট । উত্তর: 8 অ্যাম্পিয়ার; 1920 ওয়াট।
একটি হিটারের হিটিং এলিমেন্টের রেজিস্ট্যান্স 30 ওহম। হিটারটিকে 240 সরবরাহ লাইনে সংযোগ করলে কত কারেন্ট গ্রহণ করবে এবং কত পাওয়ার ব্যয় হবে? সমাধান : এখানে দেওয়া আছে, রেজিস্ট্যান্স R = 30 ওহম

ভোল্টেজ V = 240 ভোল্টেজ
কারেন্ট I = ?
পাওয়ার P = ?
V 240
আমরা জানি, 1 = = R 30 - 8 অ্যাম্পিয়ার
পাওয়ার P=Vx I = 240 x 8 ওয়াট = 1920 ওয়াট । উত্তর: 8 অ্যাম্পিয়ার; 1920 ওয়াট।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url