তারের জয়েন্ট কত প্রকার - সোল্ডারিং আয়রন - সোল্ডারিং কাকে বলে

 তারের জয়েন্ট কত প্রকার - সোল্ডারিং আয়রন - সোল্ডারিং কাকে বলে

তারের জয়েন্ট কত প্রকার - সোল্ডারিং আয়রন - সোল্ডারিং কাকে বলে

বৈদ্যুতিক তারের জয়েন্ট

তারের জয়েন্ট :

ইনসুলেশন উঠানো দুটি আলাদা তারকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে প্যাঁচানোকে তারের সংযোগ বা জয়েন্ট বলে অথবা এক বা একাধিক খেই বিশিষ্ট দুটি তারের সংযোগকে জয়েন্ট বলে। তারের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি এবং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামে সংযোগ দিতে তারের জয়েন্ট দিতে হয়।
একটি ভালো জয়েন্টের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি থাকে। 

ক) জয়েন্ট শক্ত হতে হবে, যেন টানলে সংযোগস্থল খুলে না যায়।
খ) সংযোগস্থল যেন কারেন্ট প্রবাহে অতিরিক্ত বাধার সৃষ্টি না করে।

বৈদ্যুতিক তারে জয়েন্টের প্রয়োজনীয়তা যে সমস্ত কারণে বৈদ্যুতিক তার বা ক্যাবলে জয়েন্টের প্রয়োজনীয়তা হয় তা নিচে উল্লেখ করা হলো
১. জয়েন্ট বক্সে তার জোড়া লাগানোর জন্য ।
২. তারের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে, তার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের তার তৈরি করে থাকে। ব্যবহারকারীর
প্রয়োজন অনুসারে তার কেটে ছোট এবং জয়েন্ট দিয়ে বড় করতে হয়।
৩. বিভিন্ন রকম বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সুইচ, সকেট সংযোগ করতে তার কেটে জয়েন্ট দিতে হয় ।
৪. বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে টার্মিনালের কাজে তার জয়েন্ট দিতে হয়।
৫. সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সে স্থানে জোড়া দিতে হয়।

ভালো জয়েন্টের গুণাবলি :
বৈদ্যুতিক তারের জয়েন্ট নিয়ম মোতাবেক হওয়া আবশ্যক। এ জন্য জয়েন্টের যে সমস্ত গুণাবলি থাকা আবশ্যক তা হলো
১. জয়েন্ট যান্ত্রিকভাবে মজবুত হতে হবে, যেন টানলে সহজে খুলে না যায় ।
২. জয়েন্টে কারেন্ট প্রবাহে যেন অতিরিক্ত বাধা সৃষ্টি না হয় ।
৩. জয়েন্টের ধাপসমূহ পর্যায়ক্রমে মেনে জয়েন্ট করতে হবে ।
৪. জয়েন্টের স্থান যেন বাহ্যিকভাবে দেখতে যেন সুন্দর হয়।
৫. সংযোগস্থলে কারেন্ট প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হলে গরম হয়ে জয়েন্ট নষ্ট হতে পারে ।

বৈদ্যুতিক তারের জয়েন্ট করার পদক্ষেপসমূহ : বৈদ্যুতিক তারের জয়েন্ট সঠিকভাবে করতে যে
পদক্ষেপসমূহ নিতে হয় সেগুলো ধারাবাহিকভাবে নিচে দেয়া হলো ।

তারের জয়েন্ট কত প্রকার - সোল্ডারিং আয়রন - সোল্ডারিং কাকে বলে

 

১। তারের ইনসুলেশন কাটা বা স্কিনিং করা: 

তারের ইনসুলেশন ছুরি দিয়ে কেটে ফেলে দেয়াকে বা স্কিনিং বলে । একটি তারকে অন্য তারের সাথে সংযোগ করার উদ্দেশ্যে উভয় তারের ইনসুলেশন ১ ইঞ্চি থেকে ইঞ্চি বা ২৫ মি.মি. ৩০ মি.মি. বা প্রয়োজনীয় পরিমাণ কেটে ফেলতে হবে। যে চাকু দিয়ে তারের ইনসুলেশন কেটে ফেলা হয়, এর ব্লেড ধারালো হতে হবে। ইনসুলেশন কাটার সময় তারের সাথে ৩৫° হতে ৪৫° কোণে তারের উপর চাকুর বসাতে হয়, কখনও খাড়াভাবে ঐ চাকুকে বসিয়ে ইনসুলেশন কাটা উচিত নয়, তাতে তারের খেই কেটে যেতে পারে।


অন্য পোষ্ট : সার্কিট ব্রেকার - সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে - বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং কাকে বলে

২। তারকে পরিষ্কার করা বা স্ক্যাপিং করা 

প্রয়োজনীয় পরিমাণ তারের ইনসুলেশন কেটে ফেলে দেয়ার পর যতটুকু খোলা তার থাকবে, তার উপরে ইলেকট্রিশিয়ান চাকুর ভোতা ব্লেডের সাহায্যে পরিষ্কার করে নিতে হয়ে। এটাই ক্র্যাপিং নামে পরিচিত।

৩। সংযোগ করা বা টাইয়িং করা 

দুটি তারকে একত্রে সংযোগ বা জয়েন্ট দেয়াকে টাইয়িং বলে। প্রয়োজন অনুসারে জয়েন্ট বিভিন্নভাবে করা হয়। উপরে উল্লেখিত কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে শেষ করার পর নির্দিষ্ট নিয়মে প্রয়োজনীয় সংযোগ বা জয়েন্ট করতে হয়।

৪. ঝালাই বা সোন্ডালিং করা : 

নিয়ম মোতাবেক তারের সংযোগ শেষ করে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থলে সোল্ডারিং বা ঝালাই করতে হয়। সোল্ডারিং-এর ফলে তারের জয়েন্ট মজবুত হয় এবং কারেন্ট প্রবাহে বাধা কমে যায়। ঝালাই করার সময় গরম ঝালাই বিটে রজন লাগাতে হবে। এটি সংযোগকে গরম ও পরিষ্কার ঝালাই লাগাতে সহায়তা করে। ঝালাই যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হয়।

১. যেখানে ঝালাই করতে হবে, ঐ জায়গা পরিষ্কার করা।
২. ঝালাই বিট গরম করা।
৩. গরম বিটে ঝালাইয়ের প্রলেপ লাগানো।
৪. ফ্লাক্স প্রয়োগ করা।
৫. সংযোগস্থলে ঝালাই ও ঐ স্থানে ঝালাই বিট প্রয়োগ করা ।
৬. ইনসুলেটিং বা টেপিং সংযোগস্থলে শর্ট সার্কিটজনিত
দুর্ঘটনা রোধ, মরিচা প্রতিরোধ এবং সৌন্দর্য বাড়াতে টেপিং করা হয়। জয়েন্টের কাজ সম্পন্ন করে সংযোগস্থলের খোলা তারে ইনসুলেশন লাগাতে হবে। প্রথমে ইনসুলেটিং রবার টেপ দিয়ে উন্মুক্ত জায়গাটি প্যাঁচাতে হবে, যাতে ইনসুলেশন তারের ইনসুলেশন সমান হয়।


তারের জয়েন্ট কত প্রকার - সোল্ডারিং আয়রন - সোল্ডারিং কাকে বলে

জয়েন্টের শ্রেণিবিভাগ ব্যবহারের স্থান অনুযায়ী বৈদ্যুতিক তারের জয়েন্ট বিভিন্ন সেগুলো দেয়া হলো।
১. টি জয়েন্ট বা টেপ জয়েন্ট
২. পাট পড়ানো টি জয়েন্ট
৩. ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন জয়েন্ট
৪. ডুপ্লেক্স জয়েন্ট
৫. পিগটেইল জয়েন্ট
৬. ডুপ্লেক্স টি জয়েন্ট
৭. ব্রিটেনিয়া জয়েন্ট এবং
৮. স্পাইস জয়েন্ট
৯. ম্যারেড্ জয়েন্ট।

টি জয়েন্ট (Tee Joint):

এই জয়েন্ট বহুলভাবে ব্যবহৃত হয় এবং অতি সহজে তৈরি করা যায়। এই জয়েন্ট দেখতে ইংরেজি অক্ষর (T) এর মতো দেখায় বলে এই ধরনের জয়েন্টকে টি জয়েন্ট বলে। একে আবার টেপ জয়েন্টও বলা হয় ।

পিগটেইল জয়েন্ট (Pig Tail Joint) :

সাধারণত যে সকল জায়গায় তারে কোনো টান থাকে না সেই সকল জায়গায় পিগটেইল জয়েন্ট করা যায়। দুটি ভারের মধ্যে প্রত্যেকটির প্রান্তদ্বয় থেকে ৩০ থেকে ৩৭ মি.মি. পরিমাণ ইনসুলেশন কেটে ফেলে দিতে হয়। তারপর চাকুর ধারবিহীন পার্শ্ব দিয়ে কিংবা এমারী পেপার দিয়ে ঘষে পরিবাহীর উপরের ময়লা পরিষ্কার করে নিচের চিত্রানুযায়ী প্যাঁচিয়ে সংযোগ করতে হবে, এই জয়েন্টের প্যাঁচানো অংশের ২০ মি.মি. পরিমাণ রেখে অগ্রভাগ কেটে ফেলতে হবে,

অন্য পোষ্ট : চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি - ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং - চ্যানেল ওয়্যারিং

ডুপ্লেক্স জয়েন্ট (Duplex Joint):

দুই কোর বিশিষ্ট ক্যাবলে এ ধরনের জয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। জয়েন্টগুলোকে এমনভাবে করতে হয় যেন একটি খোলা জয়েন্টের সাথে অন্য খোলা জয়েন্টের সংযোগ না হয়। টেপিং না করলেও যেন শর্ট সার্কিট হতে না পারে। এজন্য দু তারের ইনসুলেশনকে চিত্রানুযায়ী এমনভাবে কাটতে হয়, যেন একটি স্কিন শর্ট ও অন্যটি চিত্রানুযায়ী যথাক্রমে ৭৫ মি.মি. এবং ৩৮ মি.মি. করে বাইরের ইনসুলেশন পরিষ্কার করে প্রতিটি তারের দুটি কোর চিত্রানুযায়ী যথাক্রমে ৭৫ মি.মি. এবং ৩৮ মি.মি. করে ইনসুলেশন পরিষ্কার করতে হবে। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী জয়েন্টের কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

ডুপ্লেক্স 'টি' জয়েন্ট (Duplex Tee Joint) :

দুই কোর ক্যাবলে এ ধরনের জয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনীয় পরিমাণ উভয় ক্যাবলের ইনসুলেশন ফেলে দিতে হয় । তারপর তারকে চাকুর ভোঁতা ব্লেডের সাহায্যে পরিষ্কার করে নিয়ে সুন্দরভাবে 'খ' ক্যাবলের তারকে 'ক' ক্যাবলের তারের সাথে সংযোগ করে এ জয়েন্ট করা হয়। জয়েন্ট করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে, টেপিং না করলেও যেন সরবরাহ চালু রাখলে শর্ট সার্কিট না হয়।


তারের জয়েন্ট কত প্রকার - সোল্ডারিং আয়রন - সোল্ডারিং কাকে বলে

ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন জয়েন্ট (Western Union Joint):

 দুইটি তারের মধ্য প্রত্যেকটির প্রান্ত থেকে ৬০ সেমি হইতে ৭৫ সেমি পরিমাপ ইনসুলেশন কেটে নিতে হবে। তারপর চাকুর ভোতা পাশ দিয়ে বা এমারি পেপার দিয়ে ঘষে পরিবাহীর উপরের ময়লা পরিষ্কার করে নিতে হবে। অতঃপর চিত্র অনুয়ায়ী প্যাঁচিয়ে সংযোগ দিতে হবে।

ব্রিটানিয়া জয়েন্ট (Britannia Joint):

তারের ব্রিটনিয়া জয়েন্ট ১১.১১ নং চিত্রে দেখানো হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম স্ট্র্যান্ডেড পরিবাহী বা হার্ডড্রন তোমার তার জোড়া দেয়ার সময় ব্রিটনিরা জয়েন্টের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে স্ট্র্যান্ডেড পরিবাহীর চেয়ে সলিড পরিবাহী জোড়া দিতে এর ব্যবহার অধিক। বাইন্ডিং তার ও পরিবাহী তার একই ধাতুর হতে হবে। ওভার হেড লাইনেও ব্রিটনিয়া জয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। তাছাড়াও ভেতরের বা বাইরের বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং-এর জন্য মোটা তার দিয়ে এই জয়েন্ট করা হয়। দুটি তারের যে দুটি সংযোগ দিতে হবে সে দুটিকে ৭৫ মি.মি. হতে ১০০ মি.মি. ভালোভাবে পরিষ্কার করে উভয়ের প্রান্ত দুটি সমকোণে বাঁকাতে হবে। ফলে তার সহজে খুলে আসতে পারে না। অতঃপর এক প্রান্ত অন্য প্রান্তের উপর চাপিয়ে বসানো হয়। এরপর বাইন্ডিং তার দিয়ে পরস্পরের সাথে সংযোগ করে দিতে হবে। জোড়ার ঠিক মধ্যখানে বাইন্ডিং তারকে রেখে খুব শক্তভাবে তারকে বাঁধতে হয় যা  জোড়া যাতে সহজে ঢিলা হতে না পারে তার জন্যে লাইন পরিবাহীর সঙ্গে আরও কিছু অংশ জড়িয়ে রাখা উচিত।

ম্যারেড্ জয়েন্ট (Married Joint):

কেবলমাত্র রজ্জু ভারকে শক্তভাবে জয়েন্ট দিতে নিচের চিত্রানুযায়ী এ জয়েন্ট দিতে হয় প্রত্যেকটি খেই ভালোভাবে পরিষ্কার করে এ জয়েন্ট দিতে হবে, তা না হলে জয়েন্টে রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যাবে । পরিবাহী লাইনের অ্যালুমিনিয়াম তারে এ ধরনের জয়েন্ট দেয়া হয়।

স্প্লাইস জয়েন্ট :

 ওভার হেড লাইনে যদি দুটি সলিড পরিবাহী থাকে তবে সংযোগ করার সময় জয়েন্ট করা হয়। মোটা রজ্জু তার হলেও এই জয়েন্ট করা যায় ।

জয়েন্ট ব্যবহার:

বিভিন্ন প্রকার জয়েন্টের ব্যবহার নিচে উল্লেখ করা হলো 

১. পিগটেই জয়েন্ট: জয়েন্টস্থলে টান না থাকলে এ ধরনের জয়েন্ট ব্যবহৃত হয়। জাংশন বক্স, সুইচ ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
২. বেল হাঙ্গার্স জয়েন্ট যেখানে অতিরিক্ত টান নেই সেখানে এই ধরনের জয়েন্ট ব্যবহার করা হয়।
৩. ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন: যেখানে সংযোগস্থলের তারে কিছুটা টান পড়ে সেখানে এই জয়েন্ট ব্যবহার হয়।
৪. ব্রিটনিয়া জয়েন্ট : ওবার হেড লাইন অপেক্ষা কৃত মোটা তারের জন্য যেসব জায়গায় পর্যাপ্ত টান সহ্য করার দরকার হয়, সে সব স্থানে এ ধরনের জয়েন্ট ব্যবহার করা হয়।
৫. ডুপ্লেক্স জয়েন্ট: দুই কোর বিশিষ্ট দুইটি ক্যাবলের জয়েন্ট এই ধরনের সংযোগ ব্যবহার হয়। সংযোগস্থলে ট্যাপিং করার প্রয়োজন হলে ডুপ্লেক্সটি জয়েন্ট করা হয়।
৬. ম্যারিড জয়েন্ট: বহু খেই বিশিষ্ট তারে এই ধরনের ব্যবহার হয়।
৭. স্পাইস জয়েন্ট : ওভার হেড লাইনে দুইটি সলিড কন্ডাক্টরের জয়েন্ট দিতে এ ধরনের জয়েন্ট উপযোগী । ৮. টি জয়েন্ট : লাইন ট্যাপিং এর ক্ষেত্রে ‘টি’ জয়েন্ট করা হয়।


তারের জয়েন্ট কত প্রকার - সোল্ডারিং আয়রন - সোল্ডারিং কাকে বলে

বৈদ্যুতিক তারের জয়েন্ট সোল্ডারিং

সোল্ডারিং তার বা ক্যাবল কন্ডাক্টরের মধ্যে যান্ত্রিকভাবে সংযোগ দেয়ার পর সোল্ডার ও রজনের মাধ্যমে সংযোগস্থল মজবুত, জয়েন্টের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও কারেন্ট বাধামুক্ত করতে শংকর ধাতুর যে প্রলেপ দেয়া হয়, তাকে সোল্ডারিং বা ঝালাই বলে।

সোল্ডারিং করার প্রয়োজনীয়তা বৈদ্যুতিক তার অথবা ধাতুর সংযোগস্থল/জয়েন্টেকে শক্ত, মজবুত, স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করার জন্য এবং তারের নিরবচ্ছিন্নতা অর্জন এবং প্রকৃতির বা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত কারণে ক্ষয়কারক প্রক্রিয়া হতে নিরাপদ রাখার জন্য সোল্ডারিং করা প্রয়োজনীয়তা। সোল্ডারিং দুই প্রকার যথা
(ক) সফ্ট সোল্ডারিং
(খ) হার্ড সোল্ডার বা ব্রেজিং সোল্ডারিং।
টিন ও লিডের মিশ্রণে যে সোল্ডারিং করা হয় তাকে, সফ্ট সোল্ডারিং বলে। ৯০০ সে.গ্রে তাপমাত্রায় যে সোল্ডারিং করা হয়, তাকে হার্ড বা ব্রেজিং সোল্ডারিং বলে । যেমন, পুরাতন ইলেকট্রিক্যাল সংযোগ করার ক্ষেত্রে হার্ড বা ব্রেজিং সোল্ডারিং করা হয়।


অন্য পোষ্ট : ফ্রিকোয়েন্সি কাকে বলে | পাওয়ার ফ্যাক্টর কি |বৈদ্যুতিক মিটার | AC circuit

সোল্ডারিং করার বিভিন্ন পদ্ধতি :

সোল্ডারিং করার বিভিন্ন পদ্ধতি বিদ্যামান। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
১. সোল্ডারিং আয়রনের সাহায্যে সোল্ডারিং।
২. ইন্ডাকশন সোল্ডারিং
৩.মেকানাইজড সোল্ডারিং।
৪. জ্বলন্ত শিখার সাহায্যে সোল্ডারিং।
৫. ডিপ সেল্ডারিং।
৬. ফার্নেস সোল্ডারিং।
৭. রেজিস্ট্যান্স সোল্ডারিং।
উল্লেখিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সোল্ডারিং আয়রনের সাহায্যে সোল্ডারিং করার পদ্ধতিটি বহুলভাবে ব্যবহৃত।

তারের জয়েন্ট কত প্রকার - সোল্ডারিং আয়রন - সোল্ডারিং কাকে বলে


সোল্ডার-এর শ্রেণিবিভাগ:

বৈদ্যুতিক কাজে ব্যবহৃত সোল্ডারবিভিন্ন আকৃতিতে পাওয়া যায়। যথা-ওয়্যার, রড, ফয়েল স্ট্রিপ, পাউডার, পেলেট, সোল্ডার টিন ও সিসার মিশ্রণ। তবে বৈদ্যুতিক কাজে বেশি ব্যবহৃত হয় যে মিশ্রণ তাতে ৬০% টিন ৪০% লিড থাকে। এগুলো বিভিন্ন আনুপাতিক হারে মিশ্রিত করে বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়
ক) ওয়্যার সোল্ডার।
খ) রড সোল্ডার
গ) স্টিপ সোল্ডার।
ঘ) কোরড সোল্ডার।
ঙ) পাউডার সোল্ডার ।
চ) ফয়েল সোন্ডার।
ছ) পেলেট সোল্ডার।

সোল্ডারিং টিন ও লিডের অনুপাত:

সোল্ডারের প্রধান উপাদান টিন ও লিড। এটি বিভিন্ন আনুপাতিক হারে পাওয়া যায়। তবে বৈদ্যুতিক কাজে ব্যবহৃত সোল্ডারের টিন ও লীডের অনুপাত যথাক্রমে ৬০% এবং ৪০%। ১২.৬। ফ্ল্যাক্স বা রজন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা: ফ্ল্যাক্স এমন একটি দ্রব্য, যা সোল্ডারিং করার সময় ব্যবহৃত হয়।

নিম্নলিখিত কারণে ফ্ল্যাক্স বা রজন ব্যবহারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
১. সোল্ডারিং করার সময় যাতে জয়েন্টের উপর অক্সাইড না পড়তে পারে, সেদিকে খেয়ালে রাখতে হবে। অক্সাইড প্রতিরোধক হিসেবে এ ফ্ল্যাক্স ব্যবহার করা হয়।
২. ধাতুর উপর সহজে সোল্ডার লাগানোর জন্য ফ্ল্যাক্স ব্যবহার করা হয়।
৩. ধাতুর উপর যাতে পুনরায় অক্সাইড না পড়তে পারে, সে কারণেও ফ্ল্যাক্স ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url