ফ্রিকোয়েন্সি কাকে বলে | পাওয়ার ফ্যাক্টর কি |বৈদ্যুতিক মিটার | AC circuit

 ফ্রিকোয়েন্সি কাকে বলে | পাওয়ার ফ্যাক্টর কি |বৈদ্যুতিক মিটার | AC circuit

ফ্রিকোয়েন্সি কাকে বলে | পাওয়ার ফ্যাক্টর কি |বৈদ্যুতিক মিটার | AC circuit,


ফ্রিকোয়েন্সি কাকে বলে | পাওয়ার ফ্যাক্টর কি |বৈদ্যুতিক মিটার | AC circuit

এসি সার্কিট

অল্টারনেটিং কারেন্ট

 অল্টারনেটিং কারেন্ট প্রবাহ অনুসারে বৈদ্যুতিক কারেন্টকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা

(ক) অল্টারনেটিং কারেন্ট

(খ) ডাইরেক্ট কারেন্ট।

অল্টারনেটিং কারেন্ট : 

যে কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার সময় নির্দিষ্ট নিয়মমতো দিক পরিবর্তন করে এবং যার মান প্রতি মূহূর্তে পরিবর্তনশীল থাকে, তাকে অল্টারনেটিং কারেন্ট বলে। ইহাকে সংক্ষেপে এসি (AC) বলা হয় ।


ডাইরেক্ট কারেন্ট : 

যে কারেন্ট সব সময় একই দিকে প্রবাহিত হয় এবং যার মান নির্দিষ্ট থাকে, তাকে ডাইরেক্ট কারেন্ট বলে। ইহাকে সংক্ষেপে ডিসি (DC) বলে। এই কারেন্টে পজিটিভ ও নেগেটিভ পোলারিটি সব সময় অপরিবর্তিত থাকে। যেমন- ব্যাটারির কারেন্ট। একটি অল্টারনেটিং কারেন্ট ও একটি ডাইরেক্ট কারেন্টের ওয়েভ দেখানো হলো। অল্টারনেটর থেকে অল্টারনেটিং কারেন্ট পাওয়া যায় এবং একে একটি বিশেষ ব্যবস্থায় ডিসিতে অর্থাৎ ডাইরেক্ট কারেন্টে পরিণত করা হয়।


অল্টারনেটিং কারেন্টের বৈশিষ্ট্য

অল্টারনেটিং কারেন্টের বৈশিষ্ট্যবলি নিম্নরূপ 

১. এর কোনো পজেটিভ ও নেগেটিভ টার্মিনাল নাই।

২. এর সাইকেল বিদ্যমান।

৩. এর ফেজ ডিফারেন্স থাকে।

৪. অল্টারনেটিং কারেন্ট সাইন তরঙ্গ উৎপন্ন করে।

৫. অল্টারনেটিং কারেন্ট প্রতি মুহূর্তে দিক ও মান পরিবর্তন করে প্রবাহিত হয়।


অন্য পোষ্ট : microwave oven - মাইক্রোওয়েভ ওভেন - ইস্ত্রি মেশিন - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি - electric iron

 সাইকেল

যদি একটি পরিবাহী একটি উত্তর মেরু ও একটি দক্ষিণ মেরুর মাঝখানে বৃত্তাকারে একটি পথ একবার পরিভ্রমণ করে, তবে একটি ভোল্টেজ ওয়েভের সৃষ্টি হয়। এ ওয়েভটিকে সাইকেল বলে। ৩৬০° ডিগ্রির মাঝে ভোল্টেজের বা পরিবর্তনশীল রাশির পূর্ণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক মানকেই এক সাইকেল বলে।


ফ্রিকোয়েন্সি

কোনো ভোল্টেজ বা কারেন্ট ওয়েভ এক সেকেন্ড সময়ে যতগুলো সাইকেল বা ওয়েভ সম্পন্ন করে, সেই সংখ্যাকে ফ্রিকোয়েন্সি বলে। বাংলাদেশে উৎপন্ন বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি 50 সাইকেল/ সেকেন্ড বা 50 হাউজ। এর প্রতীক f এবং একক হচ্ছে সাইকেল/সেকেন্ড বা হার্টজ (Hz)।

ফ্রিকোয়েন্সি কাকে বলে | পাওয়ার ফ্যাক্টর কি |বৈদ্যুতিক মিটার | AC circuit,

টাইম পিরিয়ড

কোনো ভোল্টেজ বা কারেন্ট ওয়েভের একটি সাইকেল সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে তাকে টাইম পিরিয়ড বলে। একে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক হচ্ছে সেকেন্ড। যদি কোনো ভোল্টেজ বা কারেন্ট ওয়েভের ফ্রিকোয়েন্সি

f সাইকেল/ সেকেন্ড হয়, তবে টাইম পিরিয়ড T =1--f

সেকেন্ড হবে।


এসি ও ডিসির তুলনা

এসি ও ডিসির মধ্যে নিম্নে তুলনা করা হলো 

এসি (AC)

১. এসি হলো অল্টারনেটিং কারেন্ট 

২. প্রতি মূহূর্তে মান ও দিক পরিবর্তন হয় ।

 ৩. ফ্রিকোয়েন্সি থাকে।

৪. প্রতি মুহূর্তে মান ও দিক পরিবর্তন হয় বলে 

ইহা সাইন ওয়েভ আকারে চলে। 


ডিসি (DC)

১. ডিসি হলো ডাইরেক্ট কারেন্ট।

২. প্রতি মূহূর্তে মান ও দিক পরিবর্তন হয় না ।

৩. ফ্রিকোয়েন্সি থাকে না।

৪. প্রতি মুহূর্তে মান ও দিক পরিবর্তন হয় বলে 

ইহা সাইন ওয়েভ আকারে চলে না।


এসি সার্কিটে বিভিন্ন প্রকৃতির লোড

রেজিস্টিভ সার্কিট

পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ বিঘ্নিত হয় বা বাঁধাপ্রাপ্ত হয়, তাকে রেজিস্ট্যান্স বলে। যে সার্কিটে কেবল রেজিস্টিভ লোড বিদ্যমান থাকে তাকে রেজিস্টিভ সার্কিট বলে। অন্যভাবে, যে সার্কিট ওহমিক রেজিস্টর দ্বারা গঠিত তাকে রেজিস্টিভ সার্কিট বলে।


অন্য পোষ্ট : রেফ্রিজারেটর - Refrigerator introduction - এয়ার কুলার - Air Cooler

ইন্ডাকটিভ সার্কিট :

কোনো পরিবাহী তারকে কুগুলীর আকারে জড়ানো হলে নিজস্ব পাকের মধ্যে আবেশ ক্রিয়া ঘটে। এ আবেশ ক্রিয়ার সত্তাকে ইন্ডাকট্যান্স বলে। যেসব সার্কিটে রেজিস্ট্যান্সের তুলনায় ইন্ডাকট্যান্সের প্রভাব খুবই বেশি থাকে, তাকে ইন্ডাকটিভ সার্কিট বলে।

ইন্ডাকট্যান্স ও ইন্ডাকটিভ রিয়েকট্যান্স-এর মধ্যে সম্পর্ক সার্কিটের ইন্ডাকট্যান্সজনিত বাধাকে ইভাকটিভ রিয়েকট্যান্স বলা হয়। ইহাকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। বিশুদ্ধ ইন্ডাকটিভ সার্কিট-এর ইন্ডাকট্যান্স L হেনরি আর লাইনের ফ্রিকোয়েন্সি 'হার্টজ হলে, ইন্ডাকটিভ রিয়্যাকট্যান্স X = 2nfl. ওহম।

ফ্রিকোয়েন্সি কাকে বলে | পাওয়ার ফ্যাক্টর কি |বৈদ্যুতিক মিটার | AC circuit,

ক্যাপাসিটিভ সার্কিট

ক্যাপাসিটর পাতে ভোল্টেজ বিরাজ করলে যে বিশেষ ধর্মের জন্য এতে বৈদ্যুতিক চার্জ হতে পারে তাকে ঐ ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স বলে। ক্যাপাসিট্যান্সের একক ফেরাড। ফেরাড = 10° মাইক্রো ফেরাড।

যে সার্কিটে রেজিস্ট্যান্স ও ইন্ডাকট্যান্স নেই, শুধু ক্যাপাসিটর লাগানো আছে এ ধরনের সার্কিটকে বিশুদ্ধ ক্যাপাসিটিভ সার্কিট বলে। একটি ক্যাপাসিটরের দুই প্রান্তে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করলে ইহা অনবরত চার্জ ও ডিসচার্জ হতে থাকে। প্রতি সাইকেলে ক্যাপাসিটর দুইবার চার্জ ও দুইবার ডিসচার্জ হয়।


ক্যাপাসিট্যান্স ও ক্যাপাসিটিভ রিয়েকট্যান্স এর মধ্যে সম্পর্ক

ইহার একক ওহম।

যদি কোনো ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স C ফ্যারাড এবং সাপ্লাই ফ্রিকোয়েন্সি হার্টজ হয়, তবে ইহার

সার্কিটের ক্যাপাসিট্যান্সজনিত বাধাকে ক্যাপাসিটিভ রিয়েকট্যান্স বলা হয়। ইহাকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

ক্যাপাসিটিভ রিয়েকট্যান্স


পাওয়ার ফ্যাক্টর

ফেজ ভোল্টেজ ও ফেজ কারেন্টের মধ্যবর্তী cosine মানকে পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে। অন্য কথায়, প্রকৃত পাওয়ার ও আপাত পাওয়ারের অনুপাতকে পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে। প্রকৃত পাওয়ার = VI Cose এবং আপাত পাওয়ার = VI; একে Cose দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পাওয়ার ফ্যাক্টর একই জাতীয় দুইটি রাশির অনুপাত বিধায় এর কোনো একক নাই। অনেক সময় ইহাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়।

পাওয়ার ফ্যাক্টর = VICOSO VI ; অন্যভাবে বলা যায়, পাওয়ার ফ্যাক্টর রেজিস্ট্যান্স- ইম্পিড্যান্স


পাওয়ার ফ্যাক্টরের গুরুত্ব বৈদ্যুতিক সিস্টেমে পাওয়ার ফ্যাক্টরের গুরুত্ব অপরিসীম। পাওয়ার ফ্যাক্টর লোডের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। পাওয়ার ফ্যাক্টরের মান কমে গেলে সমপরিমাণ পাওয়ার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কারেন্টের মান বেড়ে যায়। ফলে সিস্টেমে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার, ওভারহেড লাইন ও লাইনের সাপোর্ট ইত্যাদির সাইজ বৃদ্ধি করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইন্ডাকটিভ ও ক্যাপাসিটিভ লোড-এর পাওয়ার ফ্যাক্টর লো হয়ে থাকে।


অন্য পোষ্ট : Coffee maker - কফি মেকার - চা কফি মেকার - টোস্টার - টোস্টার মেশিন - toaster

বৈদ্যুতিক মিটার (পরিমাপক যন্ত্র)

বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্রপাতি

যে কোনো পরিমাণ পরিমাপের জন্য একটি পরিমাপক যন্ত্র দরকার হয়। তাই বিদ্যুৎ এর পরিমাণ নির্ণয়ের জন্যও পরিমাপক যন্ত্র দরকার হয়। যে যন্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পরিমাণ পরিমাপ করা হয় তাকে বৈদ্যুতিক সাধারণত ডাইরেক্ট কারেন্ট পরিমাপের জন্য তৈরি করা যন্ত্র দ্বারা অল্টারনেটিং কারেন্ট পরিমাপ করা যায় না। তবে বিশেষ কিছু যন্ত্র দ্বারা এসি ও ডিসি উভয়ই পরিমাপ করা যায় ।


পরিমাপক যন্ত্র বলে । বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্র কারেন্টের ধর্মের উপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়।

বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্রপাতির তালিকা

বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্রের একটি তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো 

(ক) অ্যামমিটার; 

(খ) ভোল্টমিটার; 

(গ) ওয়াট মিটার; 

(ঘ) এনার্জি মিটার; 

(ঙ) ওহম মিটার; 

(চ) ফ্রিকোয়েন্সি মিটার; 

(ছ) পাওয়ার ফ্যাক্টর মিটার 

(জ) অ্যাভোমিটার (AVO) ইত্যাদি।


এর মধ্যে অ্যামমিটার; ভোল্ট মিটার; ওয়াট মিটার; এনার্জি মিটার; ওহম মিটার, অ্যাভোমিটার এসি ও ডিসি উভয় ক্ষেত্রেই পরিমাপক যন্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ফ্রিকোয়েন্সি মিটার ও পাওয়ার ফ্যাক্টর মিটার শুধু অল্টারনেটিং কারেন্ট (এসি) এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্রপাতির ব্যবহার একই যন্ত্র ব্যবহার করে সব ধরনের বৈদ্যুতিক পরিমাণ পরিমাপ করা যায় না। তাই ভিন্ন ভিন্ন বৈদ্যুতিক পরিমাণ পরিমাপের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় একই যন্ত্র দিয়ে একাধিক বৈদ্যুতিক পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। কিছু বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্রের ব্যবহার

নিচে দেওয়া হলো

(ক) অ্যামমিটার ব্যবহৃত হয় কারেন্ট পরিমাপের জন্য ।

(খ) ভোল্টমিটার ব্যবহৃত হয় ভোল্টেজ পরিমাপের জন্য।

(গ) ওয়াট মিটার ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক পাওয়ার পরিমাপের জন্য।

(ঘ) এনার্জি মিটার ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক এনার্জি পরিমাপের জন্য ।

(ঙ) ওহম মিটার ব্যবহৃত হয় রেজিস্ট্যান্স পরিমাপের জন্য।

(চ) ফ্রিকোয়েন্সি মিটার ব্যবহৃত হয় অল্টারনেটিং কারেন্টের ফ্রিকোয়েন্সি পরিমাপের জন্য।

(ছ) পাওয়ার ফ্যাক্টর মিটার ব্যবহৃত হয় অল্টারনেটিং কারেন্টের পাওয়ার ফ্যাক্টর পরিমাপের জন্য। তাছাড়াও অ্যাভোমিটার ও ক্লিপ অন মিটার নামক আরো দুই ধরনের মিটার আছে যা দ্বারা কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স এই তিনটি পরিমাণই পরিমাপ করা যায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url