ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার

 ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার

ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার

ফিউজ

 ফিউজ : ফিউজ এক প্রকার নরম ও নমনীয় ধাতুর তার নিয়ে গঠিত এক প্রকার বৈদ্যুতিক রক্ষণ যন্ত্র, যার ভিতর দিয়ে নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হলে তাপে নিজে পুড়ে গিয়ে বর্তনীকে সাপ্লাই থেকে বিচ্ছিন্ন করে; ফলে বর্তনী ও বর্তনীতে সংযুক্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। এটি সার্কিটে লোডের সাথে সিরজে সংযুক্ত থাকে। ফিউজ তার হিসেবে সাধারণত সিসা ও টিন এর মিশ্রন বা রূপা ব্যবহার করা হয়। ফিউজ নিম্নলিখিত তিনটি উপাদান দ্বারা গঠিত। যথা

১. ফিউজ তার,

২. ফিউজ তারের বাহক

৩. বেস বা তলদেশ।

ফিউজ হিসবে ব্যবহৃত মূল অংশকে ফিউজ তার বলে। ফিউজ তার পরিবাহী পদার্থের এবং এটি সংকর ধাতুর তৈরি। রূপার তৈরি ফিউজ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং ভালো। বাজারে বিভিন্ন মানের ফিউজ পাওয়া যায়। উপরের চিত্রে ফিউজের বিভিন্ন উপাদান চিহ্নিত করে দেখানো হয়েছে।


ফিউজ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কোনো বৈদ্যুতিক বর্তনীতে শর্ট সার্টিটে, আর্থ ফন্ট লিকেজ বা ওভারলোডের কারণে পূর্বনির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হয় ফলে বর্তনীর তারের নরম ইনসুলেশন এবং যন্ত্রপাতি গরম হয়ে ক্ষতি হতে পারে, এমনকি অকেজো বা পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা এবং বিপদমুক্তভাবে মেরামত কাজ করতে ফিউজ-এর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া প্রয়োজনবোধে বর্তনীকে সাপ্লাই লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ফিউজ ব্যবহার করা হয়।


 ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার


ফিউজ-এর শ্রেণি বিভাগ : 

ফিউজ খুব সাধারণ ধরনের রক্ষণ যন্ত্র যা সার্কিটে যুক্ত অবস্থায় অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহের হাত থেকে রক্ষা করে। এর গঠন, কাজের ধরন অনুসারে বিভিন্ন রকমের ফিউজ হয়।

গঠন অনুযায়ী ফিউজ তিন ধরনের। যথা

(ক) রি-ওয়্যারয়েবল ফিউজ, 

(খ) কার্টিজ ফিউজ বা ফ্লু-প্লাগ ফিউজ; 

(গ) এইচ আর সি (হাই রাপচারিং ক্যাপাসিটি) ফিউজ।


অন্য পোষ্ট : কন্ডাক্টর কি - কন্ডাক্টর এর কাজ কি - পিভিসি তার ও ক্যাবল

ভোলেটজ অনুসারে ফিউজ্জ দুই প্রকার। যথা- 

(ক) লো-ভোল্টেজ ফিউজ, 

(খ) হাই-ভোল্টেজ ফিউজ।

লো-ভোল্টেজ ফিউজগুলির মধ্যে রি-ওয়্যারয়েবল ফিউজ একটি। লিকুইড ফিউজ, মেটাল ফিউজ, এইচ আর সি ফিউজ, কার্টিজ ফিউজ এরা হাই ভোল্টেজ ফিউজের অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া কাজের ধরনের উপর ভিত্তি করে ফিউজকে আরও কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

১। প্লাগ ফিউজ,

২। টাইম ডিলে ফিউজ

৩। কার্বন টেট্টা ক্লোরাইড ফিউজ

৪। ওপেন ফিউজ

৫। বাই-মেটাল ফিউজ ইত্যাদি।

ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার


বিভিন্ন প্রকার ফিউজের গঠন :

১। রি-ওয়্যারয়েবল ফিউজ-এর গঠন : 

যে ফিউজ এর ফিউজ তার পড়ে কিংবা গলে গেলে সহজে পরিবর্তন করা বা বদলানো যায় তাকে রি-ওয়্যারয়েবল ফিউজ

বলে। ফিউজের অংশগুলো নিম্নরূপ

ক) ফিউজ সকেট বা বেস

খ) ফিউজ ওয়্যার হোল্ডার বা ব্রিজ

গ) স্প্রিংযুক্ত সংযোগকারী টার্মিনাল এবং টার্মিনাল মু ঘ) ফিউজ তার লাগানোর ক্রুসহ কন্ট্যাক্ট টার্মিনাল,

ঙ) ফিউজ তার ।

বেস : এটি মূলত একটি চীনামাটির আধার, যা ফিউজ সকেট বা ফিউজ বেস নামে পরিচিত।  ফিউজ সকেটে স্প্রিংযুক্ত সংযোগকারী দুটি টার্মিনাল এবং দুটি টার্মিনাল স্ক্রু থাকে, যার সাহায্যে বৈদ্যুতিক বর্তনীকে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের সাথে সংযোগ করা হয়। রি-ওয়্যারয়েবল ফিউজের তার পুড়ে যাওয়ার সময় যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দেখা দেয় এর প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষার জন্যে বেসের তলদেশে এসবেস্টাস এর প্যাড ব্যবহার করা হয়।


ব্রীজ : ফিউজ ব্রীজ সাধারণত চীনামাটির তৈরি হয়। একে ফিউজ ওয়্যার হোল্ডারও বলা হয়। ফিউজ ব্রিজ বা ফিউজ ওয়্যার হোল্ডারে দুটি কন্টাক্ট থাকে, যা সকেটে নির্দিষ্টা খাঁজে বসানো যায়। ফিউজ তার ফিউজ বীজ এর দুই কন্ট্যাক্ট টার্মিনাল ক্রুর সাহায্যে সংযুক্ত থাকে, যা ফিউজ বেসের দুটি কন্ট্যাক্টকে সংযোগ করে দেয়।


ফিউজ তার: 

ফিউজ তার হিসেবে নমনীয় নিম্ন গলনাঙ্কের শংকর ধাতুর তার ব্যবহার করা হয়। রূপার তৈরি ফিউজ তার উত্তম। টিন এবং সিসার (৬০% এবং ৪০% মিশ্রণে ফিউজ তার তৈরি করা হয়। এই তার ফিউজ ব্রিজের কন্টাক্ট টার্মিনালের ক্রুর সাথে লাগানো থাকে। ফিউজ ব্রীজটি ফিউজ সকেটে স্থাপন করলে ফিউজ সকেটের টার্মিনাল দুইটি ব্রিজ টার্মিনাল ও ফিউজ সকেটের এক টার্মিনাল হতে অপর টার্মিনালের দিকে কারেন্ট প্রবাহিত হয়।


ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার


অন্য পোষ্ট : কন্ডুইট ওয়্যারিং - সারফেস ওয়্যারিং - কনসিল্ড ওয়্যারিং - কন্ডুইট ওয়্যারিং কত প্রকার

২। কার্টিজ ফিউজ বা ফ্লু প্লাগ ফিউজ : 

এ ফিউজ দেখতে বন্দুকের টোটা বা কার্টিজের মতো, তাই একে কার্টিজ ফিউজ বলে । কার্টিজ একটা চীনামাটি বা গ্লাসের তৈরি নল, যার উভয় দিকে ধাতুর টুপি দিয়ে বন্ধ থাকে । নলের ভিতরে দুই ধাতব টুপির মাঝে ফিউজ তার আটকানো থাকে। ফিউজ পুড়ে যে গ্যাস তৈরি হয়, তা আটকানোর জন্য সিলিকা দিয়ে নল ভর্তি থাকে। ২,৪,৬,১০,১৫, ২০, ২৫, ৩৫ অ্যাম্পিয়ারের কার্টিজ ফিউজ সচরাচর ব্যবহৃত হয়। ফিউজ পুড়ে গেলে কাচের নলের মধ্যে ধোঁয়ার দাগ দেখা যায়।


 উপাদান : ফিউজের বিভিন্ন অংশ গুলো হলো

১. ফিউজ ক্যাপ বা ফিউজ কার্টিজ হোল্ডার, 

২. ফিউজ কার্টিজ, 

৩. ফিটিং ক্রু বা কন্ট্যাক্ট ফ্লু,

৪. প্রটেকটিভ প্লাস্টিক বা সিরামিক রিং, 

৫. ফিউজ বেস বা ফিউজ সকেট।


৩। এইচআরসি ফিউজ:

 এইচআরসি অর্থ হাই রাপচারিং ক্যাপাসিটি অর্থাৎ উচ্চ বিদারণ ক্ষমতাসম্পন্ন। অতিরিক্ত লোডের বর্তনীকে রক্ষার জন্য এ ধরনের ফিউজ ব্যবহার করা হয়।

গঠন এ ফিউজের গঠন অনেকটা কার্টিজ ফিউজের মতো। ফিউজের কার্টিজে কার্টিজ নলটি উচ্চ মানের সিরামিক অথবা কাচের তৈরি। ফিউজ তার খাঁটি রূপার তৈরি। পিতল বা তামার টুপি দিয়ে নলটির দু মুখ আটকানো থাকে। ফিউজ তার উভয় টুপির সাথে সংযোগ করা থাকে। টুপির উভয় কন্ট্রাক্ট টার্মিনালের সাথে আটকানো থাকে। কার্টিজ এই ফিউজের অংশগুলো হলো

১. হাতল, 

২. ফিউজ কার্টিজ, 

৩. ফিউজ সকেট, 

৪. চীনামাটির নল, 

৫. কন্ট্রাক্ট প্রান্ত, 

৬, ফিউজ তার ইত্যাদি।

ফিউজ পুড়ে যাওয়ার কারণ যে সমস্ত কারণে ফিউজ পুড়ে যায় সেগুলো হলো

১. শর্ট সার্কিটজনিত কারণে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহে,

২. অতিরিক্ত লোড সংযোগ করলে,

৩. সার্জ ভোল্টেজের কারণে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহে ও

৪. আর্থ ফল্ট বা আর্থ লিকেজের কারণে অতি কারেন্ট প্রবাহে।

উল্লেখিত কারণে ফিউজের মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহে যে তাপ হয় তাতেই ফিউজ তার গলে যায় বা পুড়ে যায়।

ফিউজ কি - ফিউজ কাকে বলে - ফিউজ - ফিউজ তারের বৈশিষ্ট্য - ফিউজ কত প্রকার


অন্য পোষ্ট : চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি - ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং - চ্যানেল ওয়্যারিং

 বিভিন্ন প্রকার ফিউজের ব্যবহার নিচের বিভিন্ন ধরনের ফিউজের ব্যবহার উল্লেখ করা হলো। 

১। বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন সাব-সার্কিটে ফিউজ ব্যবহার করা হয়।

২। লেদ মেশিন, ড্রিল মেশিন ইত্যাদিতে ব্যবহৃত মোটরের জন্য একই রকম ফিউজ ব্যবহার হয়। 

৩। ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম (রেডিও, টিভি, ইউপিএস) এ সহজে পরিবর্তন করা যায় এরূপ কিউজ হিসেবে ব্লু-ইন টাইপ ফিউজ ব্যবহার করা হয়।

৪। সার্কিটের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে ফিউজ ব্যবহৃত হয়। 

৫। সাবস্টেশনে এইচ আর সি ব্যবহৃত হয়।

৬। ফ্রিজের সাইজ অনুযায়ী ৫ অ্যাম্পিয়ার থেকে ১০ অ্যাম্পিয়ার রি-ওয়্যারয়েবল বা প্লাগ ফিউজ ব্যবহার করা হয়। অধিকাংশ যন্ত্রপাতিতে কাট্রিজ ফিউজ ব্যবহার করা হয়। যেখানে আগুন লাগার আশঙ্কা থাকে সেখানে এইচ আর সি ফিউজ ব্যবহার করা হয়। ফিউজ ব্যবহারে দুটি অসুবিধা দেখা দেয়।

ক) হাই ভোল্টেজে অধিক পাওয়ার সরবরাহে ফিউজ ব্যবহার করা যায় না এবং

খ) ফিউজ পুড়ে গেলে পুনঃস্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে হয়, যে কাজ সবাই নিরাপদে করতে পারে না।


ফিউজের ফিউজিং ফ্যাক্টর :

 যে পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহের ফলে ফিউজ ইলিমেন্ট পুড়ে যায় বা গলে যায়, তাকে উক্ত ফিউজ এর ফিউজিং কারেন্ট বলে। কোনো ফিউজ-এর ফিউজিং কারেন্ট এবং রেটেড কারেন্ট এর অনুপাতকে উক্ত ফিউজ এর ফিউজিং ফ্যাক্টর বলে। যেমন- কোনো ফিউজ-এর রেটেড কারেন্ট Ip অ্যাম্পিয়ার এবং ফিউজিং কারেন্ট Ip অ্যাম্পিয়ার হলে উক্ত ফিউজ এর ফিউজিং ফ্যাক্টর ফিউজ এলিমেন্টের ফিউজিং কারেন্ট Ip FF = ফিউজ এলিমেন্টের রেটেড কারেন্ট Ix ফিউজিং ফ্যাক্টর যেহেতু একই জাতীয় রাশির অনুপাত ভাই এর কোনো একক নেই। লাইটিং লোডের ক্ষেত্রে ফিউজিং কারেন্ট, লোড কারেন্টের ১.৫ গুণ। অর্থাৎ ফিউজিং ফ্যাক্টর ১.৫। অপরদিকে মটরের ক্ষেত্রে ফিউজিং কারেন্ট, লোড কারেন্টের ২.৫ গুণ। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ফিউজিং ফ্যাক্টর ২.৫। সাধারণত গ্রহণযোগ্য ফিউজিং ফ্যাক্টর নরমাল কারেন্টের দ্বিগুণ হিসেবে ধরা হয়। ফিউজিং ফ্যাক্টরের মান সর্বদা একের বেশি হয়। কারণ ফিউজিং কারেন্ট সর্বদা রেটেড কারেন্টের চেয়ে বেশি হয়।


 ফিউজ তারের সাইজ ও কারেন্ট বহন ক্ষমতা সম্পর্কে নিম্নরূপ :

ফিউজের সাইজ বলতে ফিউজ তারেরই সাইজ বোঝায়। ফিউজ তারের সাইজ ও কারেন্ট বহন ক্ষমতা লোডে প্রবাহিত নরমাল কারেন্টের ২৫% বেশি হতে হবে। নিচে বিভিন্ন সাইজের ফিউজের রেটেড কারেন্ট ও ফিউজিং কারেন্ট দেখানো হলো। ফিউজ তারের সাইজ ও কারেন্ট বহন ক্ষমতা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে।

ক) ফিউজ তারের কার্যকরী অংশের দৈর্ঘ্য,

খ) ফিউজ তারের দু প্রান্তে ব্যবহৃত টার্মিনালের সাইজ,

গ) ফিউজ তারের অবস্থা, কারণ রজ্জু আকৃতির ফিউজ সলিড এলিমেন্ট এর চেয়ে কম কারেন্ট বহন করে।

ঘ) ফিউজ তারের অবস্থান ও ব্যবহারিক ক্ষেত্র।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url